সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে শহীদ আবু সাঈদ প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ পারভেজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সিপাহি ও সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক সম্মিলন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মোহাম্মদ ইকবাল আরও বলেন, জাতীয় সংকটে ঐক্য, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের গুরুত্ব উপলব্ধি করাই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শিক্ষা। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। এ সময় তিনি ডুয়েট প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষক সমিতির প্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল হক মোল্লার অবদান স্মরণ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ডুয়েটকে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত নিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার চর্চা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীরা শুধু ভবিষ্যৎ প্রকৌশলী বা প্রযুক্তিবিদ নন, তাঁরা আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিও অর্জন করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ পারভেজ ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আত্মনির্ভরতার দর্শন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্ব লাভ করে। জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়েই ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করা উচিত।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংহতির চেতনা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা ব্যক্তিগত আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পারস্পরিক আস্থা, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ডুয়েটের উপপরিচালক (যানবাহন) প্রকৌশলী মো. হারুন আল রশীদ, কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মো. আব্দুল কাদের।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের প্রধান, পরিচালক, অফিসপ্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক টার্গেট 



























