বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ যীশু সেনগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। টালিউডের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাউন’ মুক্তিকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিল্পীদের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা।
কারিশমা কাপুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
‘ব্রাউন’ সিরিজে যীশুর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন বলিউড তারকা কারিশমা কাপুর। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেতা জানান, কারিশমা অত্যন্ত ভদ্র ও সহজ-সরল একজন মানুষ। শুটিংয়ের সময় নব্বই দশকের বলিউডের অনেক স্মৃতি তার মনে ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, এই সিরিজে দর্শক কারিশমাকে একেবারে নতুন রূপে দেখতে পাবেন, যা আগে কখনো পর্দায় দেখা যায়নি।
বলিউড-টালিউড সংস্কৃতির পার্থক্য
কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যীশু বলেন, মুম্বাইয়ের ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখানো হয়। সেখানে কাজের বাইরে ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত কৌতূহল তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে পরিচিতি তৈরি হলেই অনেক সময় ব্যক্তিগত সীমারেখা অতিক্রম করা হয়, যা পেশাদার পরিবেশের জন্য সবসময় ইতিবাচক নয় বলে মনে করেন তিনি।
রাজনীতি নয়, শিল্পচর্চার স্বাধীনতাই প্রত্যাশা
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে যীশু জানান, কোনো সরকারের কাছ থেকেই তার বিশেষ প্রত্যাশা থাকে না। তবে তিনি মনে করেন, শিল্পীদের সৃজনশীল কাজ করার সুযোগ এবং স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিনয়ী থাকার পেছনে পরিবারের শিক্ষা
অভিনয়জীবনে একের পর এক সাফল্য এলেও কীভাবে নিজেকে মাটির কাছাকাছি রাখেন এমন প্রশ্নের উত্তরে যীশু কৃতিত্ব দেন তার পরিবারকে। তার মতে, মানুষের চরিত্র গঠনে পারিবারিক শিক্ষা ও আশপাশের মানুষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি কাজ করে। জীবনে যাদের সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাদের কাছ থেকেই তিনি নম্রতা ও মানবিকতার শিক্ষা অর্জন করেছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি
সাক্ষাৎকারে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন অভিনেতা। তিনি জানান, জীবনের কোনো এক সময়ে তিনি নিজেও অবসাদের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং নিয়েছেন। মনোবিদের সাহায্য নেওয়াকে তিনি একেবারেই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখেন।
তার মতে, বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সংকট মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তাই এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া জরুরি।
‘তারকাও মানুষ’
নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে দ্বিধা নেই বলেও জানান যীশু। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতা বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়ার আগে তিনি একজন সাধারণ মানুষ। মানুষের জীবনে ভুল-ত্রুটি, সাফল্য-ব্যর্থতা সবকিছুই থাকে। সমাজকে তিনি সাদা-কালোর পরিবর্তে ধূসর বাস্তবতার মধ্যেই দেখতে অভ্যস্ত।
যীশুর ভাষায়, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে সত্যিকার অর্থে জানা। নিজের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মসম্মানবোধ না থাকলে অন্য কাউকে সুখী করা সম্ভব নয়। তার বিশ্বাস, নিজের মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া কোনো স্বার্থপরতা নয়; বরং সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত।
নতুন প্রজন্মের জন্য বার্তা
অভিনেতার বক্তব্যে স্পষ্ট, সাফল্যের চেয়ে মানসিক সুস্থতা ও মানবিক মূল্যবোধকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন অবসাদ লুকিয়ে না রেখে প্রয়োজন হলে সাহায্য নিতে হবে এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
















Leave a Reply