সময়ের সঙ্গে অনেক বিতর্কই হারিয়ে যায়, আবার কিছু ঘটনা থেকে যায় স্মৃতির পাতায়। বলিউড অভিনেত্রী পূজা ভাটের একটি বহুল আলোচিত ম্যাগাজিন কভারও তেমনই একটি ঘটনা, যা প্রকাশের তিন দশকের বেশি সময় পরও আলোচনায় উঠে আসে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরোনো অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
পূজার মতে, যে ছবিটি একসময় নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, সেটি কখনোই আলোড়ন তোলার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। বরং একটি ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা ছিল পুরো আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অভিনেত্রী জানান, একটি আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ফটোশুটটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ধারণাটি তাঁর কাছে আকর্ষণীয় মনে হওয়ায় কোনো দ্বিধা ছাড়াই অংশ নিতে সম্মত হন। সেই সময় বিষয়টিকে তিনি শুধুই একটি সৃজনশীল প্রকল্প হিসেবে দেখেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে পূজা স্মরণ করেন, প্রস্তাবটি পাওয়ার পর তিনি ছবিটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাই পুনর্নির্মাণের উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে ফটোশুট সম্পন্ন হয় এবং কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি বিষয়টি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন।
তবে ম্যাগাজিনটি প্রকাশের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কেউ এটিকে সাহসী শিল্পচর্চা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ সমালোচনার চোখে দেখেছেন।
পূজা বলেন, জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে সেই প্রতিক্রিয়াগুলোকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। কারণ তাঁর কাছে পুরো কাজটির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পভিত্তিক একটি ভাবনার প্রকাশ, বিতর্ক সৃষ্টি নয়।
সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণারও ব্যাখ্যা দেন তিনি। অনেকের বিশ্বাস ছিল, ওই ফটোশুটে তিনি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফটোশুটের সময় তিনি প্রয়োজনীয় পোশাক পরিধান করেছিলেন এবং পুরো দলই জানত কোন সীমার মধ্যে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা চমক তৈরির পরিকল্পনা সেখানে ছিল না। বরং যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তাঁদের পেশাদারিত্বের ওপর আস্থা রেখেই প্রকল্পটির অংশ হয়েছিলেন।
পূজার মতে, সময়ের প্রেক্ষাপটও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে বিষয়টি নব্বইয়ের দশকে অনেকের কাছে অস্বাভাবিক বা সাহসী মনে হয়েছিল, বর্তমান সময়ে সেটিকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ছবিটি আবার আলোচনায় আসায় তিনি বিস্মিত হলেও এটিকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখছেন।
অভিনেত্রীর বিশ্বাস, কোনো ছবি বা শিল্পকর্মকে ‘কাল্ট’ মর্যাদা দেওয়া পরিকল্পনা করে সম্ভব নয়। সময়, দর্শক ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই কিছু কাজ আলাদা পরিচিতি পায়। তাঁর ভাষায়, তিনি তখন যেমন ছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ফটোশুট নিয়ে মানুষের আগ্রহ প্রমাণ করে যে, বিনোদন জগতের কিছু মুহূর্ত কেবল একটি ছবি হয়ে থাকে না; বরং সময়ের সঙ্গে তা সংস্কৃতি ও আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে।
দৈনিক টার্গেট 


























