একদিনেই ঘুরে দেখুন ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সৌন্দর্যে ভরপুর কুমিল্লা
ঢাকার খুব কাছেই, চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত কুমিল্লা জেলা শুধুই খাদি কাপড় ও রসমালাইয়ের জন্যেই বিখ্যাততম নয় এই জেলা জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর শিক্ষা ঐতিহ্যের সঙ্গে।
মধ্যযুগ, মোঘল আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান সময় পর্যন্ত কুমিল্লা নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। অল্প সময়ে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কুমিল্লা এক অসাধারণ গন্তব্য।
ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে মাত্র দুই ঘণ্টার যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় কুমিল্লায়। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার মতো সুযোগ থাকায় কুমিল্লা এখন একদিনের ভ্রমণের জন্য ভীষণ জনপ্রিয়।
শালবন বৌদ্ধ বিহার: ইতিহাসের নীরব কণ্ঠস্বর
কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার ছিল এক সময়কার বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের উপাসনালয়। এখানে রয়েছে ১৫৫টি ছোট কক্ষ, যেগুলোতে সাধনারত থাকতেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। বিহারের নাম এসেছে আশপাশের শাল গাছবেষ্টিত বনের কারণে। খননকাজে এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে বহু মূল্যবান নিদর্শন স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, ব্রোঞ্জের মূর্তি, টেরাকোটা ফলক ও প্রাচীন তাম্রলিপি। কুমিল্লা সদর থেকে মাত্র ২০ টাকায় সিএনজি ভাড়া দিয়ে যাওয়া যায় এই স্থানে।
ময়নামতি জাদুঘর: অতীতের আয়না
শালবন বিহারের পাশেই গড়ে উঠেছে ময়নামতি জাদুঘর। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, ব্রোঞ্জ ও পাথরের মূর্তি, খেলনা, পোড়ামাটির ফলক, কাঠ ও মৃৎশিল্পের নানা নিদর্শন। এখানকার প্রতিটি সংগ্রহ মেলে ধরে কুমিল্লার হাজার বছরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি: নিঃশব্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ব্রিটিশ ও মিত্র বাহিনীর সৈনিকদের স্মৃতিতে নির্মিত হয়েছে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি। এখানে ৭৩৭টি কবর রয়েছে, যার মধ্যে ২৪ জন ছিলেন জাপানি যুদ্ধবন্দি। সিমেট্রিটির পরিবেশ শান্ত ও শ্রদ্ধানত, যা যুদ্ধের ভয়াবহতাকে মনে করিয়ে দেয়। এটি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের কাছে অবস্থিত এবং স্থানীয়রা একে “ইংরেজ কবরস্থান” নামেও চিনে থাকেন।
ধর্মসাগর দীঘি: রাজাদের জনসেবা
রাজা ধর্মপালের সময়ে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় খনন করা হয়েছিল কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ধর্মসাগর দীঘি। দীঘির পাড়ে গড়ে উঠেছে শিশু পার্ক, হাঁটার পথ, আর বসার জায়গা সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে শহরবাসীর প্রিয় বিশ্রামস্থল। দীঘির পাশ দিয়ে হেঁটে কিংবা নৌকায় চড়ে দেখা যায় অপরূপ জলরাশি।
আনন্দ বিহার: শেষ বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিহ্ন
কোটবাড়ির আনন্দ বিহার ছিল উপমহাদেশের সর্বশেষ বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়। সপ্তম শতকের শেষ দিকে দেব বংশের রাজা শ্রী আনন্দ দেব এটি নির্মাণ করেন। বিশাল চতুষ্কোণ প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির ও দীঘি। এখানকার স্থাপত্যে মেলে ধরা হয়েছে প্রাচীন নগর পরিকল্পনার নিদর্শন।
একদিনের জন্য আদর্শ গন্তব্য
কুমিল্লা ভ্রমণ মানেই ইতিহাসের গভীরে ডুব দেওয়া, চোখ ভরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা, আর হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া শহরের গর্বিত ঐতিহ্য। স্বল্প সময়ে ভ্রমণ করতে চাইলে কুমিল্লা হতে পারে আপনার পরবর্তীকালে তালিকার সেরা নাম।
