টাইপ বি ব্যক্তিরা সাধারণত চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এড়িয়ে চলেন। তাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
নমনীয়তা ও অভিযোজন ক্ষমতা: যেকোনো পরিবর্তন সহজে মেনে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে এদের।
ধৈর্য ও কম মানসিক চাপ: তাড়াহুড়ো করার তাগিদ তাদের মধ্যে কম থাকে। এমনকি চাপের মুখেও তারা ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন।
সৃজনশীলতা: কাজের চেয়ে সৃজনশীল উপায় ও চিন্তাভাবনাকে তারা বেশি প্রাধান্য দেন।
প্রোক্রাস্টিনেশন বা কাজ জমিয়ে রাখার প্রবণতা: এই চরিত্রের একটি বড় দুর্বলতা হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ পিছিয়ে দেওয়া।
টাইপ বি ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কম। কম স্ট্রেস লেভেলের কারণে এদের উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি টাইপ এ ব্যক্তিদের তুলনায় বেশ কম থাকে। এমনকি চাপমুক্ত থাকার কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো হতে পারে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। অতিরিক্ত ঢিলেঢালা স্বভাবের কারণে অনেক সময় তারা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন থাকেন। রুটিন চেকআপ বা ডাক্তারের পরামর্শ হালকাভাবে নেওয়া এবং ওজন বেড়ে গেলেও খুব একটা মাথা না ঘমানো তাদের বড় একটি সমস্যা।
টাইপ বি মানুষেরা ভীষণ অমায়িক, ধৈর্যশীল ও ভালো শ্রোতা হন। তারা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলা বাঁধাতে পছন্দ করেন না। তবে অতিরিক্ত নমনীয়তার কারণে অনেক সময় তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভুলে যান এবং সহজে অন্যের সুবিধার শিকার হন। এর প্রভাব শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রেও দেখা যায়। এই ব্যক্তিত্বের মানুষেরা পড়াশোনায় বেশ ভালো করতে পারেন। যেমন একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন টাইপ বি প্রকৃতির! তবে তাদের শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাবের কারণে সহকর্মী বা বসরা অনেক সময় তাদের ‘অলস’ বা ‘অকর্মণ্য’ হিসেবে ভুল বুঝতে পারেন।
দৌড়ঝাঁপের এই আধুনিক বিশ্বে টাইপ বি ব্যক্তিত্বের মানুষেরা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, জীবনের সব সময় সর্বোচ্চ গতিতে ছোটার প্রয়োজন নেই। এরচেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু জিরিয়ে নেওয়া এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাও সমান জরুরি। স্বস্তির জীবন যাপন করলেও টাইপ বি দের কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়।
সময় ব্যবস্থাপনা: কাজ শেষ মুহূর্তে জমিয়ে না রেখে ছোট ছোট লক্ষ্য বা শিডিউল তৈরি করা।
লক্ষ্য নির্ধারণ: জীবনের লাগাম একেবারে আলগা না ছেড়ে সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করা।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা: কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অর্জনগুলো অন্যদের সামনে তুলে ধরা, যাতে কেউ তাদের ভুল না বোঝে।
সূত্র: ওয়েব মেড, ভেরি ওয়েল মাইন্ড

দৈনিক টার্গেট 


























