প্রাচ্যের মুক্তা মালয়েশিয়ার পেনাং

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

‘প্রাচ্যের মুক্তো’ খ্যাত মালয়েশিয়ার পেনাং দ্বীপটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সুস্বাদু খাবারের এক অপূর্ব মিলনমেলা। এর রাজধানী জর্জ টাউনের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মন্দির, ঔপনিবেশিক আমলের ম্যানসন এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রিট ফুড পেনাংকে ভ্রমণপিয়াসিদের কাছে এক অন্য রকম আকর্ষণে পরিণত করেছে।

ঐতিহাসিক জর্জ টাউন ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত জর্জ টাউনের প্রাচীন গলিগুলো যেন এক জীবন্ত জাদুঘর।

আধ্যাত্মিকতা এবং প্রকৃতির অপূর্ব সম্মিলন দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে হবে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধমন্দির ‘কেক লোক সি’। জর্জ টাউনের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নান্দনিক খোদাইয়ের ‘খু কংসি’ ক্ল্যান হাউস, পানির ওপর চীনা পরিবারগুলোর তৈরি কাঠের বাড়িওয়ালা ‘ক্ল্যান জেটিজ’ এবং জমকালো ‘পিন্যাং পেরানাকান ম্যানসন’। ঐতিহ্যবাহী ক্ল্যান হাউসগুলো অতীত ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। স্থানীয় পেডেলচালিত রিকশায় চড়ে জর্জ টাউনের ঐতিহাসিক অলিগলি ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। রঙিন শপহাউস, প্রাচীন মন্দির ও ঔপনিবেশিক ভবনগুলোর পাশ দিয়ে ধীরগতিতে চলার সময় কোনো লোকাল ক্যাফেতে চা-কফি পানের অভিজ্ঞতা আপনাকে পেনাংয়ের সত্যিকারের স্থানীয় বাসিন্দার অনুভূতি দেবে।

পেনাং হিল এবং অত্যাধুনিক কেব্‌ল কার: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত পেনাং হিল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে যাওয়া চাই-ই চাই। বোটানিক গার্ডেন থেকে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য তৈরি করা ১০ মিনিটের নতুন ড্রামাটিক কেব্‌ল কার রাইড থেকে পুরো দ্বীপের প্যানারামিক দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এ ছাড়া রয়েছে অরগানিক ফার্ম ট্রেইল ও হিল-টু-প্লেট রান্নার অভিজ্ঞতা।

ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও রিভার ক্রুজ: কেবল সৈকতই নয়, পেনাংয়ের মূল ভূখণ্ডের সতুঙ্গাই জুরু নদীতে রয়েছে দুই ঘণ্টার ‘পেনাং রিভার ক্রুজ’। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘুরে দেখা, সামুদ্রিক কাঁকড়া ধরা এবং গ্রামীণ কম্পং জীবনের আসল রূপ উপভোগ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে এখানে।

খাবারপ্রেমীদের কাছে পেনাং এক পরম তীর্থস্থান। পেনাংয়ের জীবনযাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো খাবার। ‘স্ট্রেইটস অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল মিউজিয়াম’-এ জাহাজডুবির আমলের সিরামিক দেখার পাশাপাশি স্ট্রিট ফুড খেতে পারেন। এ ছাড়া ‘ওয়ান্ডারফুড মিউজিয়াম’ ঘুরে স্থানীয় হকার সেন্টারে নানা পদের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া বা লিটল ইন্ডিয়ায় শপিং করার সুযোগ তো রয়েছেই। এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘চার কোয়ে তিও’ বা ডিম ও প্রন দিয়ে তৈরি চাটু-ভাজা চালের নুডলস এবং টক-ঝাল স্বাদের ‘পেনাং আসাম লাকসা’ পুরো এশিয়ায় সমাদৃত। ঐতিহ্যবাহী নিয়োনিয়া থেকে শুরু করে ‘মিশেলিন’ স্বীকৃত ফাইন ডাইনিং—সবই মিলবে এই দ্বীপে।

ইতিহাস, প্রকৃতি আর সুস্বাদু খাবারের এই দারুণ মেলবন্ধন উপভোগ করতে ২০২৭ সালের আগেই পেনাং ভ্রমণের পরিকল্পনা সেরে ফেলতে পারেন।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ভিএন এক্সপ্রেস

প্রকৃতির চিরন্তন সাক্ষী, পৃথিবীর প্রাচীনতম ১০ জীবন্ত বিস্ময়

প্রকৃতির চিরন্তন সাক্ষী, পৃথিবীর প্রাচীনতম ১০ জীবন্ত বিস্ময়

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবনের যুগে ‘নতুন’ আর ‘আধুনিক’ শব্দ দুটির আবেদন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাই বলে কি পুরোনো জিনিসগুলো হারিয়ে যায়? আমাদের এই পৃথিবীতেই টিকে রয়েছে অত্যন্ত প্রাচীন কিছু জীবন্ত অলৌকিক সত্তা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই জীবনগুলো পৃথিবীর বুকে আবহমান কালের জীবন্ত…

গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতিতে ঘেরা কানাডার দ্বীপ ব্যাটল হারবার

গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতিতে ঘেরা কানাডার দ্বীপ ব্যাটল হারবার

ভূতের গল্প কিংবা রহস্যময় স্থানে যাওয়ার রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, এমন অনেক মানুষই আছেন। নির্জন কোনো দ্বীপে হেঁটে যাওয়ার সময় যদি মনে হয়, অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কি সত্যি জীবিত। আবার এটাও মনে হতে পারে, এটা বহু বছর আগের কোনো স্মৃতি। ঠিক এমনই এক গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতির জন্ম দেয় কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ

রূপসী মেঘনার ওপারে কবির গ্রাম

রূপসী মেঘনার ওপারে কবির গ্রাম

সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে সামান্য ঢলে পড়েছে। আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি পান্থশালা ঘাটে। নৌকায় উঠব নাকি ফেরিতে—ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত বেছে নিলাম ছইওয়ালা নৌকা। ছইয়ের ওপরে বসলাম। উদ্দেশ্য মেঘনা নদী দেখতে দেখতে ওপারে যাব। নদীর রূপ-সৌন্দর্য দেখার লোভ সামলানো কঠিন। আমরা যারা ইটপাথরের নগরে থাকি, তাদের জন্য তো প্রায়

জনপ্রিয় টার্গেট

প্রাচ্যের মুক্তা মালয়েশিয়ার পেনাং

প্রকাশ: ০৭:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

‘প্রাচ্যের মুক্তো’ খ্যাত মালয়েশিয়ার পেনাং দ্বীপটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সুস্বাদু খাবারের এক অপূর্ব মিলনমেলা। এর রাজধানী জর্জ টাউনের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মন্দির, ঔপনিবেশিক আমলের ম্যানসন এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রিট ফুড পেনাংকে ভ্রমণপিয়াসিদের কাছে এক অন্য রকম আকর্ষণে পরিণত করেছে।

ঐতিহাসিক জর্জ টাউন ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত জর্জ টাউনের প্রাচীন গলিগুলো যেন এক জীবন্ত জাদুঘর।

আধ্যাত্মিকতা এবং প্রকৃতির অপূর্ব সম্মিলন দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে হবে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধমন্দির ‘কেক লোক সি’। জর্জ টাউনের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নান্দনিক খোদাইয়ের ‘খু কংসি’ ক্ল্যান হাউস, পানির ওপর চীনা পরিবারগুলোর তৈরি কাঠের বাড়িওয়ালা ‘ক্ল্যান জেটিজ’ এবং জমকালো ‘পিন্যাং পেরানাকান ম্যানসন’। ঐতিহ্যবাহী ক্ল্যান হাউসগুলো অতীত ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। স্থানীয় পেডেলচালিত রিকশায় চড়ে জর্জ টাউনের ঐতিহাসিক অলিগলি ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। রঙিন শপহাউস, প্রাচীন মন্দির ও ঔপনিবেশিক ভবনগুলোর পাশ দিয়ে ধীরগতিতে চলার সময় কোনো লোকাল ক্যাফেতে চা-কফি পানের অভিজ্ঞতা আপনাকে পেনাংয়ের সত্যিকারের স্থানীয় বাসিন্দার অনুভূতি দেবে।

পেনাং হিল এবং অত্যাধুনিক কেব্‌ল কার: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত পেনাং হিল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে যাওয়া চাই-ই চাই। বোটানিক গার্ডেন থেকে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য তৈরি করা ১০ মিনিটের নতুন ড্রামাটিক কেব্‌ল কার রাইড থেকে পুরো দ্বীপের প্যানারামিক দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এ ছাড়া রয়েছে অরগানিক ফার্ম ট্রেইল ও হিল-টু-প্লেট রান্নার অভিজ্ঞতা।

ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও রিভার ক্রুজ: কেবল সৈকতই নয়, পেনাংয়ের মূল ভূখণ্ডের সতুঙ্গাই জুরু নদীতে রয়েছে দুই ঘণ্টার ‘পেনাং রিভার ক্রুজ’। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘুরে দেখা, সামুদ্রিক কাঁকড়া ধরা এবং গ্রামীণ কম্পং জীবনের আসল রূপ উপভোগ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে এখানে।

খাবারপ্রেমীদের কাছে পেনাং এক পরম তীর্থস্থান। পেনাংয়ের জীবনযাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো খাবার। ‘স্ট্রেইটস অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল মিউজিয়াম’-এ জাহাজডুবির আমলের সিরামিক দেখার পাশাপাশি স্ট্রিট ফুড খেতে পারেন। এ ছাড়া ‘ওয়ান্ডারফুড মিউজিয়াম’ ঘুরে স্থানীয় হকার সেন্টারে নানা পদের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া বা লিটল ইন্ডিয়ায় শপিং করার সুযোগ তো রয়েছেই। এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘চার কোয়ে তিও’ বা ডিম ও প্রন দিয়ে তৈরি চাটু-ভাজা চালের নুডলস এবং টক-ঝাল স্বাদের ‘পেনাং আসাম লাকসা’ পুরো এশিয়ায় সমাদৃত। ঐতিহ্যবাহী নিয়োনিয়া থেকে শুরু করে ‘মিশেলিন’ স্বীকৃত ফাইন ডাইনিং—সবই মিলবে এই দ্বীপে।

ইতিহাস, প্রকৃতি আর সুস্বাদু খাবারের এই দারুণ মেলবন্ধন উপভোগ করতে ২০২৭ সালের আগেই পেনাং ভ্রমণের পরিকল্পনা সেরে ফেলতে পারেন।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ভিএন এক্সপ্রেস

প্রকৃতির চিরন্তন সাক্ষী, পৃথিবীর প্রাচীনতম ১০ জীবন্ত বিস্ময়

প্রকৃতির চিরন্তন সাক্ষী, পৃথিবীর প্রাচীনতম ১০ জীবন্ত বিস্ময়

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবনের যুগে ‘নতুন’ আর ‘আধুনিক’ শব্দ দুটির আবেদন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাই বলে কি পুরোনো জিনিসগুলো হারিয়ে যায়? আমাদের এই পৃথিবীতেই টিকে রয়েছে অত্যন্ত প্রাচীন কিছু জীবন্ত অলৌকিক সত্তা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই জীবনগুলো পৃথিবীর বুকে আবহমান কালের জীবন্ত…

গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতিতে ঘেরা কানাডার দ্বীপ ব্যাটল হারবার

গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতিতে ঘেরা কানাডার দ্বীপ ব্যাটল হারবার

ভূতের গল্প কিংবা রহস্যময় স্থানে যাওয়ার রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, এমন অনেক মানুষই আছেন। নির্জন কোনো দ্বীপে হেঁটে যাওয়ার সময় যদি মনে হয়, অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কি সত্যি জীবিত। আবার এটাও মনে হতে পারে, এটা বহু বছর আগের কোনো স্মৃতি। ঠিক এমনই এক গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতির জন্ম দেয় কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ

রূপসী মেঘনার ওপারে কবির গ্রাম

রূপসী মেঘনার ওপারে কবির গ্রাম

সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে সামান্য ঢলে পড়েছে। আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি পান্থশালা ঘাটে। নৌকায় উঠব নাকি ফেরিতে—ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত বেছে নিলাম ছইওয়ালা নৌকা। ছইয়ের ওপরে বসলাম। উদ্দেশ্য মেঘনা নদী দেখতে দেখতে ওপারে যাব। নদীর রূপ-সৌন্দর্য দেখার লোভ সামলানো কঠিন। আমরা যারা ইটপাথরের নগরে থাকি, তাদের জন্য তো প্রায়