০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেমন্তে যে সহজলভ্য ৫টি সুপারফুড আপনাকে রাখবে চনমনে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

হেমন্তের বাজারে এখন মিলছে মিষ্টি আলু। সাধারণ আলুর চেয়ে এটি পুষ্টিগুণে অনেক এগিয়ে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং পটাসিয়াম। এটি চোখের জ্যোতি বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং উচ্চ ফাইবার ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কার্যকরী। বিকালের নাস্তায় ভাজাপোড়া না খেয়ে মিষ্টি আলু পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

হেমন্তের অন্যতম সেরা উপহার হলো টাটকা আমলকী। ছোট এই ফলটিকে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা পুষ্টির পাওয়ারহাউস বলেন। কমলার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে একটি আমলকীতে। এছাড়া এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা ও কাশি দূর করতে আমলকী অতুলনীয়। এটি লিভার পরিষ্কার রাখে এবং চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি টাটকা আমলকী চিবিয়ে খেতে পারেন, অথবা এর রস হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

হেমন্তের বাজারে এখন সাদা মূলা এবং এর কচি সবুজ শাকের আধিক্য। অনেকেই মূলা অপছন্দ করলেও এর পুষ্টিগুণ জানলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে বাধ্য হবেন। মূলা ও এর শাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার এবং অ্যান্থোসায়ানিন। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। মূলা হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শীতের আগমনী সর্দি-জ্বর থেকে রক্ষা করে। মূলা পাতলা করে কেটে সালাদ হিসেবে, কিংবা কচি মূলা শাক হালকা ভাজি করে ভাতের সাথে খাওয়া যায়।

হেমন্তের অন্যতম প্রধান সবজি হলো শিম। এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। শিমে রয়েছে উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। কম ক্যালরিযুক্ত এই সবজিটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর ফাইবার উপাদান কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখে। রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য শিম অত্যন্ত উপকারী। শিম-আলুর তরকারি, শিম ভর্তা কিংবা ডালের সাথে শিম মিশিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়।

যদিও পালং শাক শীতকাল জুড়ে পাওয়া যায়, তবে হেমন্তের এই সময়ে বাজারে যে কচি পালং শাক আসে, তার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অনন্য। এটি আয়রন, ভিটামিন কে, এ, সি এবং ফলিক অ্যাসিডের খনি। শরীরে রক্তকণিকা গঠনে এবং হাড় মজবুত করতে পালং শাকের জুড়ি নেই। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের যেকোনো প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে পালং শাক অতিরিক্ত না রেঁধে হালকা ভাপে বা স্যুপে দিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

সুস্থ থাকার জন্য সবসময় দামী বা বিদেশি সুপারফুডের পেছনে ছোটার প্রয়োজন নেই। প্রকৃতির নিয়মেই আমাদের চারপাশে ঋতুভিত্তিক যেসব সস্তা ও তাজা খাবার পাওয়া যায়, সেগুলোই সুস্থতার আসল চাবিকাঠি। তাই এই হেমন্তে সুস্থ ও চনমনে থাকতে আপনার প্রতিদিনের খাবার টেবিলে যুক্ত করুন এই সহজলভ্য দেশি সুপারফুডগুলো।

হালকা আবহাওয়ায় খেতে পারেন মাশরুম বিন স্যুপ

হালকা আবহাওয়ায় খেতে পারেন মাশরুম বিন স্যুপ

একঘেয়ে সাধারণ স্যুপ খেতে খেতে কি বোর হয়ে গেছেন? কিংবা প্রতিদিনের সেই একই স্বাদে একটু নতুনত্বের ছোঁয়া খুঁজতে চান? যদি নরমাল স্যুপের স্বাদ আর ভালো না লাগে, তাহলে এই ভিন্ন স্বাদের ও পুষ্টিতে ভরপুর স্যুপটি আপনার বিকেলের নাশতা বা রাতের খাবারে আনতে পারে এক দারুণ বৈচিত্র্য। এক বাটি গরম গরম এই স্যুপ

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় খাবারের ১২৫ বছর: এক রহস্যময় শেফ ও প্রথম ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁর গল্প

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় খাবারের ১২৫ বছর: এক রহস্যময় শেফ ও প্রথম ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁর গল্প

ঠিক ১২৫ বছর আগে, ১৯০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বুকে গড়ে উঠেছিল প্রথম ভারতীয় রেস্তোরাঁ। আর এই ঐতিহাসিক ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন রঞ্জি স্মাইল নামের এক রহস্যময়, অত্যন্ত বর্ণিল এবং করিৎকর্মা এক ভারতীয় শেফ।

বিমান থেকে বিমানবন্দর, সেরা খাবারের খেতাব পেল কারা

বিমান থেকে বিমানবন্দর, সেরা খাবারের খেতাব পেল কারা

ভ্রমণ মানেই এখন শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত নয়; এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছে রকমারি খাবারের অভিজ্ঞতা। কোথাও যেতে হলে আমরা প্রথমে ভাবি, সেখানে গিয়ে কী খাব। কিংবা সেই দেশের সেরা খাবারটা কোথায় গেলে পাব। কিন্তু এই ভ্রমণের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যাত্রাপথ; যার অন্যতম মাধ্যম বিমান।

জনপ্রিয় টার্গেট

টেন্ডারে অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা: যুবদল নেতা পিন্টু

হেমন্তে যে সহজলভ্য ৫টি সুপারফুড আপনাকে রাখবে চনমনে

প্রকাশ: ০৩:০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

হেমন্তের বাজারে এখন মিলছে মিষ্টি আলু। সাধারণ আলুর চেয়ে এটি পুষ্টিগুণে অনেক এগিয়ে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং পটাসিয়াম। এটি চোখের জ্যোতি বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং উচ্চ ফাইবার ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কার্যকরী। বিকালের নাস্তায় ভাজাপোড়া না খেয়ে মিষ্টি আলু পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

হেমন্তের অন্যতম সেরা উপহার হলো টাটকা আমলকী। ছোট এই ফলটিকে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা পুষ্টির পাওয়ারহাউস বলেন। কমলার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে একটি আমলকীতে। এছাড়া এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা ও কাশি দূর করতে আমলকী অতুলনীয়। এটি লিভার পরিষ্কার রাখে এবং চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি টাটকা আমলকী চিবিয়ে খেতে পারেন, অথবা এর রস হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

হেমন্তের বাজারে এখন সাদা মূলা এবং এর কচি সবুজ শাকের আধিক্য। অনেকেই মূলা অপছন্দ করলেও এর পুষ্টিগুণ জানলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে বাধ্য হবেন। মূলা ও এর শাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার এবং অ্যান্থোসায়ানিন। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। মূলা হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শীতের আগমনী সর্দি-জ্বর থেকে রক্ষা করে। মূলা পাতলা করে কেটে সালাদ হিসেবে, কিংবা কচি মূলা শাক হালকা ভাজি করে ভাতের সাথে খাওয়া যায়।

হেমন্তের অন্যতম প্রধান সবজি হলো শিম। এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। শিমে রয়েছে উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। কম ক্যালরিযুক্ত এই সবজিটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর ফাইবার উপাদান কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখে। রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য শিম অত্যন্ত উপকারী। শিম-আলুর তরকারি, শিম ভর্তা কিংবা ডালের সাথে শিম মিশিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়।

যদিও পালং শাক শীতকাল জুড়ে পাওয়া যায়, তবে হেমন্তের এই সময়ে বাজারে যে কচি পালং শাক আসে, তার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অনন্য। এটি আয়রন, ভিটামিন কে, এ, সি এবং ফলিক অ্যাসিডের খনি। শরীরে রক্তকণিকা গঠনে এবং হাড় মজবুত করতে পালং শাকের জুড়ি নেই। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের যেকোনো প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে পালং শাক অতিরিক্ত না রেঁধে হালকা ভাপে বা স্যুপে দিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

সুস্থ থাকার জন্য সবসময় দামী বা বিদেশি সুপারফুডের পেছনে ছোটার প্রয়োজন নেই। প্রকৃতির নিয়মেই আমাদের চারপাশে ঋতুভিত্তিক যেসব সস্তা ও তাজা খাবার পাওয়া যায়, সেগুলোই সুস্থতার আসল চাবিকাঠি। তাই এই হেমন্তে সুস্থ ও চনমনে থাকতে আপনার প্রতিদিনের খাবার টেবিলে যুক্ত করুন এই সহজলভ্য দেশি সুপারফুডগুলো।

হালকা আবহাওয়ায় খেতে পারেন মাশরুম বিন স্যুপ

হালকা আবহাওয়ায় খেতে পারেন মাশরুম বিন স্যুপ

একঘেয়ে সাধারণ স্যুপ খেতে খেতে কি বোর হয়ে গেছেন? কিংবা প্রতিদিনের সেই একই স্বাদে একটু নতুনত্বের ছোঁয়া খুঁজতে চান? যদি নরমাল স্যুপের স্বাদ আর ভালো না লাগে, তাহলে এই ভিন্ন স্বাদের ও পুষ্টিতে ভরপুর স্যুপটি আপনার বিকেলের নাশতা বা রাতের খাবারে আনতে পারে এক দারুণ বৈচিত্র্য। এক বাটি গরম গরম এই স্যুপ

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় খাবারের ১২৫ বছর: এক রহস্যময় শেফ ও প্রথম ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁর গল্প

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় খাবারের ১২৫ বছর: এক রহস্যময় শেফ ও প্রথম ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁর গল্প

ঠিক ১২৫ বছর আগে, ১৯০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বুকে গড়ে উঠেছিল প্রথম ভারতীয় রেস্তোরাঁ। আর এই ঐতিহাসিক ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন রঞ্জি স্মাইল নামের এক রহস্যময়, অত্যন্ত বর্ণিল এবং করিৎকর্মা এক ভারতীয় শেফ।

বিমান থেকে বিমানবন্দর, সেরা খাবারের খেতাব পেল কারা

বিমান থেকে বিমানবন্দর, সেরা খাবারের খেতাব পেল কারা

ভ্রমণ মানেই এখন শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত নয়; এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছে রকমারি খাবারের অভিজ্ঞতা। কোথাও যেতে হলে আমরা প্রথমে ভাবি, সেখানে গিয়ে কী খাব। কিংবা সেই দেশের সেরা খাবারটা কোথায় গেলে পাব। কিন্তু এই ভ্রমণের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যাত্রাপথ; যার অন্যতম মাধ্যম বিমান।