আপনি যে বয়সে মারা যাবেন ভাবছেন, গবেষণা বলছে তার চেয়েও বেশি বাঁচতে পারেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

তবে তাদের অনুমানে একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতাও দেখা গেছে। অনেকেই তারা আর কতদিন বাঁচবেন, তা কম করে অনুমান করেছিলেন। যেসব অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রকৃত আয়ু নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছিল, তাদের মধ্যে গবেষকদের হিসাবে প্রায় ৫৯ শতাংশ নিজেদের ধারণা করা বয়সের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছেন।

জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবার সমাজবিজ্ঞানী শোহেই ওকামোতোর নেতৃত্বে গবেষকরা এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁরা জাপানজুড়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের ওপর পরিচালিত জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল ‘জাপানিজ এজিং হেলথ অ্যান্ড ডাইনামিকস স্টাডির’ (Japanese Aging and Health Dynamics Study) তথ্য বিশ্লেষণ করেন। ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৪৪৭ জন অংশগ্রহণকারীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচবেন বলে মনে করেন। তাদের মধ্যে ৩৯৩ জন বলেছিলেন, তারা জানেন না। বাকি ২ হাজার ৫৪ জন একটি নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ করেন। তাদের দেওয়া বয়সের পরিসর ছিল ৬৩ থেকে ১২০ বছর।

পরবর্তী ২৮ বছরে ওই ২ হাজার ৫৪ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৪ জন মারা যান। তাদের মৃত্যুর তারিখের প্রায় ৯৮ শতাংশ সরকারি বাসিন্দা-নিবন্ধন রেকর্ড অথবা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। ফলে গবেষকরা মানুষের অনুমান করা আয়ুর সঙ্গে তাদের প্রকৃত আয়ু তুলনা করতে পেরেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মনে করেছিলেন তাদের সামনে আরও বেশি বছর রয়েছে, তারা সাধারণত বেশি দিন বেঁচেছেন। বয়স, লিঙ্গ, আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বজায় ছিল।

এই গবেষণা সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। গবেষণাটি এখনো বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মাধ্যমে যাচাই হয়নি। আর এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই মানুষ বেশি দিন বাঁচবে বলে আশা করলেই তার আয়ু বেড়ে যায়, অথবা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা মানুষকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখে, এমন কোনো প্রমাণ এই গবেষণা দেয় না।

বরং, এমন হতে পারে যে মানুষ নিজের স্বাস্থ্য, জীবনযাপন বা পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে এমন কিছু জানেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ আয়ু সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে এবং একই সঙ্গে তাদের প্রকৃত আয়ুর ওপরও প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি নিজেকে সুস্থ মনে করেন, তাহলে তিনি হয়তো মনে করবেন আরও বেশি দিন বাঁচবেন। একই সঙ্গে তার সুস্থ থাকার কারণে সত্যিই তার বেশি দিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে।

গবেষকরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিলেও এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা গবেষণায় মাপা হয়নি এবং একই সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশিত ও প্রকৃত আয়ু দুটোকেই প্রভাবিত করেছে। মানুষের করা অনুমানও ব্যক্তিগতভাবে খুব নির্ভুল কোনো ‘কাউন্টডাউন’ ছিল না। গবেষকদের পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল অনুযায়ী, কেউ তার প্রত্যাশিত আয়ুতে আরও এক বছর যোগ করলে, তার আনুমানিক প্রকৃত বেঁচে থাকার সময় মাত্র প্রায় ০ দশমিক ১২ বছর বাড়ার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অনুমানের ভুলের মাত্রাও আলাদা ছিল। নারী এবং যাদের শিক্ষাজীবন তুলনামূলক দীর্ঘ ছিল, তারা নিজেদের ধারণা করা বয়সের চেয়ে বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা বেশি দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, যাদের স্বাস্থ্য খারাপ ছিল, তারা নিজেদের প্রত্যাশিত বয়সের চেয়ে বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা কম দেখিয়েছেন।

এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার সঙ্গে একটি পরিচিত সংখ্যা জড়িত—৮০। অনেক অংশগ্রহণকারী ৮০ বছর বয়সকে তাদের প্রত্যাশিত আয়ু হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে জাপানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে জন্মের সময়কার গড় আয়ুও প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি ছিল। এতে বোঝা যায়, মানুষ হয়তো সমাজে বহুল পরিচিত একটি গড় সংখ্যাকে নিজের আয়ু অনুমানের ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়েছিল।

কিন্তু জন্মের সময়কার গড় আয়ু এবং ইতোমধ্যে বয়স্ক বয়সে পৌঁছে যাওয়া একজন মানুষের বাকি জীবনকাল এক বিষয় নয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন, তাহলে জীবনের শুরুর দিকে মৃত্যুর যেসব ঝুঁকি জন্মের সময় হিসাব করা গড় আয়ুর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল, তিনি ইতোমধ্যেই সেসব ঝুঁকি পার হয়ে এসেছেন। তাই একজন ব্যক্তির বর্তমান বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে হিসাব করা আয়ুর অনুমান তার জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে, পুরো জনসংখ্যার জন্য নির্ধারিত একটি গড় সংখ্যা নয়।

একটি সামগ্রিক গড় হিসাব নারী এবং বেশি শিক্ষিত মানুষের বেশি দিন বেঁচে থাকার প্রবণতাকেও আড়াল করতে পারে। তবে ৮০ বছর বয়সের সংখ্যাটিকে ভিত্তি করে অনুমান করাই যে ভুলের কারণ ছিল, গবেষণাটি তা প্রমাণ করেনি।

শিক্ষার বিষয়টিতেও একটি ভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। যেসব অংশগ্রহণকারীর শিক্ষাজীবন দীর্ঘ ছিল, তারা ৫ দিয়ে বিভাজ্য বয়স, যেমন ৭৫,৮০ বা ৮৫ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা কম দেখিয়েছেন। কিন্তু তারা অপেক্ষাকৃত কম নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ করলেও তাদের অনুমান বেশি নির্ভুল হয়নি। তারাও প্রায়ই নিজেদের আয়ু কম করে অনুমান করেছিলেন।

মানুষ কতদিন বাঁচবে, তা ভুলভাবে অনুমান করার বিষয়টি শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহলের ব্যাপার নয়। এর বাস্তব আর্থিক প্রভাবও থাকতে পারে। গবেষকরা লিখেছেন, আয়ু কম করে অনুমান করলে অবসরজীবনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় না করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার আয়ু বেশি করে অনুমান করলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিতব্যয়ী হয়ে যেতে পারে, এমনকি দারিদ্র্যের মধ্যেও পড়ে যেতে পারে।

গবেষক দলের মতে, একজন মানুষের বর্তমান বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে তার বাকি সম্ভাব্য আয়ু সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হলে মানুষ আর্থিক বিষয়ে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই গবেষণার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা ১৯৯৬ সালে তাদের সম্ভাব্য আয়ু সম্পর্কে মাত্র একবার অনুমান করেছিলেন। ফলে পরবর্তী সময়ে কোনো রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, কিংবা কাছের কোনো মানুষের মৃত্যু তাদের নিজের আয়ু সম্পর্কে ধারণা কীভাবে বদলে দিতে পারত, তা গবেষকরা অনুসরণ করতে পারেননি।

এ ছাড়া গবেষণার তথ্যভান্ডারে অংশগ্রহণকারীদের বাবা-মায়ের কত বছর বেঁচে ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় শুধু জাপানের বয়স্ক মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এই ফলাফল সরাসরি তরুণ মানুষ কিংবা বিশ্বের অন্য দেশের জনসংখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।

গবেষণার ফলাফল এমন কোনো প্রমাণ দেয় না যে মানুষ শুধু বেশি দিন বাঁচবে বলে আশা করলেই নিজের আয়ু বাড়াতে পারে। তবে মানুষের করা এই অনুমানগুলোর মধ্যে এমন কিছু ইঙ্গিত থাকতে পারে, যা তারা সচেতনভাবে বা অচেতনভাবে নিজেদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানেন, তার প্রতিফলন। তারপরও একটি বিষয় বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী বুঝতে পারেননি—তাদের ভবিষ্যৎ হয়তো তাদের কল্পনার চেয়েও দীর্ঘ হবে।

প্রায় দুই দশক ধরে আমরা জানি, চাঁদে কোনো না কোনো ফর্মে অর্থাৎ কোনো না কোনো রূপে পানি রয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা ঠিক জানি না, চাঁদের যেসব গর্তে সব সময় ছায়া থাকে, সেখানে কতটা ব্যবহারযোগ্য বরফ জমে আছে বা সেই বরফ কতটা গভীরে চাপা পড়ে আছে কিংবা ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পলিটেকনিকো দ্য তুরিনের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেলোড (মালামাল) মহাকাশে পাঠাতে বিশ্বের প্রধান মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে ভারতের খরচ সবচেয়ে বেশি।

একই পুরুষ ইঁদুরের জিনগত উপাদান ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ ও স্ত্রী ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। জিন সম্পাদনা বা ‘জিন এডিটিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে পুরুষ ভ্রূণ থেকে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ অপসারণ করে এই রূপান্তর ঘটানো হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

রোজ স্কিন স্ন্যাকস খেলেই ফিরবে ত্বকের সৌন্দর্য

আপনি যে বয়সে মারা যাবেন ভাবছেন, গবেষণা বলছে তার চেয়েও বেশি বাঁচতে পারেন

প্রকাশ: ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তবে তাদের অনুমানে একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতাও দেখা গেছে। অনেকেই তারা আর কতদিন বাঁচবেন, তা কম করে অনুমান করেছিলেন। যেসব অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রকৃত আয়ু নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছিল, তাদের মধ্যে গবেষকদের হিসাবে প্রায় ৫৯ শতাংশ নিজেদের ধারণা করা বয়সের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছেন।

জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবার সমাজবিজ্ঞানী শোহেই ওকামোতোর নেতৃত্বে গবেষকরা এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁরা জাপানজুড়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের ওপর পরিচালিত জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল ‘জাপানিজ এজিং হেলথ অ্যান্ড ডাইনামিকস স্টাডির’ (Japanese Aging and Health Dynamics Study) তথ্য বিশ্লেষণ করেন। ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৪৪৭ জন অংশগ্রহণকারীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচবেন বলে মনে করেন। তাদের মধ্যে ৩৯৩ জন বলেছিলেন, তারা জানেন না। বাকি ২ হাজার ৫৪ জন একটি নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ করেন। তাদের দেওয়া বয়সের পরিসর ছিল ৬৩ থেকে ১২০ বছর।

পরবর্তী ২৮ বছরে ওই ২ হাজার ৫৪ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৪ জন মারা যান। তাদের মৃত্যুর তারিখের প্রায় ৯৮ শতাংশ সরকারি বাসিন্দা-নিবন্ধন রেকর্ড অথবা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। ফলে গবেষকরা মানুষের অনুমান করা আয়ুর সঙ্গে তাদের প্রকৃত আয়ু তুলনা করতে পেরেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মনে করেছিলেন তাদের সামনে আরও বেশি বছর রয়েছে, তারা সাধারণত বেশি দিন বেঁচেছেন। বয়স, লিঙ্গ, আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বজায় ছিল।

এই গবেষণা সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। গবেষণাটি এখনো বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মাধ্যমে যাচাই হয়নি। আর এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই মানুষ বেশি দিন বাঁচবে বলে আশা করলেই তার আয়ু বেড়ে যায়, অথবা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা মানুষকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখে, এমন কোনো প্রমাণ এই গবেষণা দেয় না।

বরং, এমন হতে পারে যে মানুষ নিজের স্বাস্থ্য, জীবনযাপন বা পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে এমন কিছু জানেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ আয়ু সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে এবং একই সঙ্গে তাদের প্রকৃত আয়ুর ওপরও প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি নিজেকে সুস্থ মনে করেন, তাহলে তিনি হয়তো মনে করবেন আরও বেশি দিন বাঁচবেন। একই সঙ্গে তার সুস্থ থাকার কারণে সত্যিই তার বেশি দিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে।

গবেষকরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিলেও এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা গবেষণায় মাপা হয়নি এবং একই সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশিত ও প্রকৃত আয়ু দুটোকেই প্রভাবিত করেছে। মানুষের করা অনুমানও ব্যক্তিগতভাবে খুব নির্ভুল কোনো ‘কাউন্টডাউন’ ছিল না। গবেষকদের পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল অনুযায়ী, কেউ তার প্রত্যাশিত আয়ুতে আরও এক বছর যোগ করলে, তার আনুমানিক প্রকৃত বেঁচে থাকার সময় মাত্র প্রায় ০ দশমিক ১২ বছর বাড়ার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অনুমানের ভুলের মাত্রাও আলাদা ছিল। নারী এবং যাদের শিক্ষাজীবন তুলনামূলক দীর্ঘ ছিল, তারা নিজেদের ধারণা করা বয়সের চেয়ে বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা বেশি দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, যাদের স্বাস্থ্য খারাপ ছিল, তারা নিজেদের প্রত্যাশিত বয়সের চেয়ে বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা কম দেখিয়েছেন।

এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার সঙ্গে একটি পরিচিত সংখ্যা জড়িত—৮০। অনেক অংশগ্রহণকারী ৮০ বছর বয়সকে তাদের প্রত্যাশিত আয়ু হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে জাপানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে জন্মের সময়কার গড় আয়ুও প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি ছিল। এতে বোঝা যায়, মানুষ হয়তো সমাজে বহুল পরিচিত একটি গড় সংখ্যাকে নিজের আয়ু অনুমানের ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়েছিল।

কিন্তু জন্মের সময়কার গড় আয়ু এবং ইতোমধ্যে বয়স্ক বয়সে পৌঁছে যাওয়া একজন মানুষের বাকি জীবনকাল এক বিষয় নয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন, তাহলে জীবনের শুরুর দিকে মৃত্যুর যেসব ঝুঁকি জন্মের সময় হিসাব করা গড় আয়ুর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল, তিনি ইতোমধ্যেই সেসব ঝুঁকি পার হয়ে এসেছেন। তাই একজন ব্যক্তির বর্তমান বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে হিসাব করা আয়ুর অনুমান তার জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে, পুরো জনসংখ্যার জন্য নির্ধারিত একটি গড় সংখ্যা নয়।

একটি সামগ্রিক গড় হিসাব নারী এবং বেশি শিক্ষিত মানুষের বেশি দিন বেঁচে থাকার প্রবণতাকেও আড়াল করতে পারে। তবে ৮০ বছর বয়সের সংখ্যাটিকে ভিত্তি করে অনুমান করাই যে ভুলের কারণ ছিল, গবেষণাটি তা প্রমাণ করেনি।

শিক্ষার বিষয়টিতেও একটি ভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। যেসব অংশগ্রহণকারীর শিক্ষাজীবন দীর্ঘ ছিল, তারা ৫ দিয়ে বিভাজ্য বয়স, যেমন ৭৫,৮০ বা ৮৫ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা কম দেখিয়েছেন। কিন্তু তারা অপেক্ষাকৃত কম নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ করলেও তাদের অনুমান বেশি নির্ভুল হয়নি। তারাও প্রায়ই নিজেদের আয়ু কম করে অনুমান করেছিলেন।

মানুষ কতদিন বাঁচবে, তা ভুলভাবে অনুমান করার বিষয়টি শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহলের ব্যাপার নয়। এর বাস্তব আর্থিক প্রভাবও থাকতে পারে। গবেষকরা লিখেছেন, আয়ু কম করে অনুমান করলে অবসরজীবনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় না করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার আয়ু বেশি করে অনুমান করলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিতব্যয়ী হয়ে যেতে পারে, এমনকি দারিদ্র্যের মধ্যেও পড়ে যেতে পারে।

গবেষক দলের মতে, একজন মানুষের বর্তমান বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে তার বাকি সম্ভাব্য আয়ু সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হলে মানুষ আর্থিক বিষয়ে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই গবেষণার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা ১৯৯৬ সালে তাদের সম্ভাব্য আয়ু সম্পর্কে মাত্র একবার অনুমান করেছিলেন। ফলে পরবর্তী সময়ে কোনো রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, কিংবা কাছের কোনো মানুষের মৃত্যু তাদের নিজের আয়ু সম্পর্কে ধারণা কীভাবে বদলে দিতে পারত, তা গবেষকরা অনুসরণ করতে পারেননি।

এ ছাড়া গবেষণার তথ্যভান্ডারে অংশগ্রহণকারীদের বাবা-মায়ের কত বছর বেঁচে ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় শুধু জাপানের বয়স্ক মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এই ফলাফল সরাসরি তরুণ মানুষ কিংবা বিশ্বের অন্য দেশের জনসংখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।

গবেষণার ফলাফল এমন কোনো প্রমাণ দেয় না যে মানুষ শুধু বেশি দিন বাঁচবে বলে আশা করলেই নিজের আয়ু বাড়াতে পারে। তবে মানুষের করা এই অনুমানগুলোর মধ্যে এমন কিছু ইঙ্গিত থাকতে পারে, যা তারা সচেতনভাবে বা অচেতনভাবে নিজেদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানেন, তার প্রতিফলন। তারপরও একটি বিষয় বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী বুঝতে পারেননি—তাদের ভবিষ্যৎ হয়তো তাদের কল্পনার চেয়েও দীর্ঘ হবে।

প্রায় দুই দশক ধরে আমরা জানি, চাঁদে কোনো না কোনো ফর্মে অর্থাৎ কোনো না কোনো রূপে পানি রয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা ঠিক জানি না, চাঁদের যেসব গর্তে সব সময় ছায়া থাকে, সেখানে কতটা ব্যবহারযোগ্য বরফ জমে আছে বা সেই বরফ কতটা গভীরে চাপা পড়ে আছে কিংবা ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পলিটেকনিকো দ্য তুরিনের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেলোড (মালামাল) মহাকাশে পাঠাতে বিশ্বের প্রধান মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে ভারতের খরচ সবচেয়ে বেশি।

একই পুরুষ ইঁদুরের জিনগত উপাদান ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ ও স্ত্রী ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। জিন সম্পাদনা বা ‘জিন এডিটিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে পুরুষ ভ্রূণ থেকে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ অপসারণ করে এই রূপান্তর ঘটানো হয়েছে।