ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: সম্ভাবনার আড়ালে সংকট

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত হয়েছে

এটি একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়। সাধারণত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত কাঠামো ঠিক করে তারপর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাসের আগে, এমনকি অধ্যাদেশ জারির আগেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। সাধারণত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়; কিন্তু এ ইউনিভার্সিটি যেহেতু সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত, তাই পুরোপুরি না হলেও এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। এটি দিয়েই পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, এটি কোন পাঠ্যক্রম দ্বারা পরিচালিত হবে? অধ্যাদেশ জারির আগে বলা হয়েছিল এটি স্কুলিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এটি অধ্যাদেশের ৭ (৪) ধারায় স্কুল পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেহেতু একটি মাল্টি-ক্যাম্পাস ইউনিভার্সিটি, তাই প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসকে আলাদা আলাদা অনুষদে ভাগ করলে ভালো হবে। যদি স্কুলিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা সবচেয়ে ভালো ফল বয়ে আনবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকাকালীন কারিকুলামেই পাঠদান চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাগ্য মূলত নির্ভর করছে এই কারিকুলামের ওপর। যদি কোনো মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়, তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো সেশনজট। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত অবস্থায় ভর্তি নেওয়া হয়। বিভিন্ন জটিলতার পর বারবার তারিখ পিছিয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হয় এবং ক্লাস শুরু হয় এ বছরের জানুয়ারি মাসে। ফলে শুরুতেই একটি সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কোনো সেশনজট থাকবে না। আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে, তা প্রতি শিক্ষাবর্ষে কয়েক মাস কমিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে আগস্ট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এদিকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে; ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারাও সেশনজটের মুখে পড়বে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগেই ক্লাস শুরু হয়েছে এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। এদিক থেকে এ ইউনিভার্সিটি পিছিয়ে রয়েছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে সেশনজট নিরসনে কিছু দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত মাস পিছিয়ে রয়েছে, তার একটি হিসাব করতে হবে। এরপর প্রতিবছরে অল্প অল্প সময় কমিয়ে এনে (অর্থাৎ ১২ মাসের বছরকে ৯-১০ মাসে নামিয়ে এনে) এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে এই দুই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেশনজটের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। আর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা হলো, এর পর থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একই সময়ে ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে। ইতিমধ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার খসড়া রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই দুটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি সংকট হলো প্রশাসনিক লোকবল। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখনো প্রশাসনিক অনেক পদ খালি রয়েছে। যদি ফাঁকা পদগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে গতি আসবে।

প্রশাসন কিছু ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি দেশের একটি অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

মেরাজুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে এমপিও ও সরকারি স্বীকৃতি

স্কুলে যাওয়ার নাম করে তিন বান্ধবী পার্কে যাচ্ছিল। পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত পোশাক। দুপুরের খাবারও ছিল সঙ্গে। পার্কে একটা দারুণ সময় কাটাবে বলে প্রস্তুত ছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিবেশন করে কাজের জায়গায় ফিরছিলেন

জনপ্রিয় টার্গেট

জীবন নিয়ে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেই, প্রতি মুহূর্তে বাঁচো, নিজের ভালোটা দেখো

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: সম্ভাবনার আড়ালে সংকট

প্রকাশ: ০৭:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এটি একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়। সাধারণত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত কাঠামো ঠিক করে তারপর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাসের আগে, এমনকি অধ্যাদেশ জারির আগেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। সাধারণত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়; কিন্তু এ ইউনিভার্সিটি যেহেতু সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত, তাই পুরোপুরি না হলেও এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। এটি দিয়েই পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, এটি কোন পাঠ্যক্রম দ্বারা পরিচালিত হবে? অধ্যাদেশ জারির আগে বলা হয়েছিল এটি স্কুলিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এটি অধ্যাদেশের ৭ (৪) ধারায় স্কুল পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেহেতু একটি মাল্টি-ক্যাম্পাস ইউনিভার্সিটি, তাই প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসকে আলাদা আলাদা অনুষদে ভাগ করলে ভালো হবে। যদি স্কুলিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা সবচেয়ে ভালো ফল বয়ে আনবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকাকালীন কারিকুলামেই পাঠদান চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাগ্য মূলত নির্ভর করছে এই কারিকুলামের ওপর। যদি কোনো মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়, তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো সেশনজট। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত অবস্থায় ভর্তি নেওয়া হয়। বিভিন্ন জটিলতার পর বারবার তারিখ পিছিয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হয় এবং ক্লাস শুরু হয় এ বছরের জানুয়ারি মাসে। ফলে শুরুতেই একটি সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কোনো সেশনজট থাকবে না। আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে, তা প্রতি শিক্ষাবর্ষে কয়েক মাস কমিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে আগস্ট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এদিকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে; ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারাও সেশনজটের মুখে পড়বে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগেই ক্লাস শুরু হয়েছে এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। এদিক থেকে এ ইউনিভার্সিটি পিছিয়ে রয়েছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে সেশনজট নিরসনে কিছু দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত মাস পিছিয়ে রয়েছে, তার একটি হিসাব করতে হবে। এরপর প্রতিবছরে অল্প অল্প সময় কমিয়ে এনে (অর্থাৎ ১২ মাসের বছরকে ৯-১০ মাসে নামিয়ে এনে) এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে এই দুই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেশনজটের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। আর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা হলো, এর পর থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একই সময়ে ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে। ইতিমধ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার খসড়া রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই দুটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি সংকট হলো প্রশাসনিক লোকবল। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখনো প্রশাসনিক অনেক পদ খালি রয়েছে। যদি ফাঁকা পদগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে গতি আসবে।

প্রশাসন কিছু ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি দেশের একটি অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

মেরাজুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে এমপিও ও সরকারি স্বীকৃতি

স্কুলে যাওয়ার নাম করে তিন বান্ধবী পার্কে যাচ্ছিল। পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত পোশাক। দুপুরের খাবারও ছিল সঙ্গে। পার্কে একটা দারুণ সময় কাটাবে বলে প্রস্তুত ছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিবেশন করে কাজের জায়গায় ফিরছিলেন