দিল্লিতে ইরানি প্রেসিডেন্টের ভিডিও ভাইরাল, তিনি কি হিন্দু গুরুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:০০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

‘thebasedindian’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একজন হিন্দু ধর্মগুরুর পা স্পর্শ করে আশীর্বাদ নেওয়ার দৃশ্যটি বিনয়, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক সম্প্রীতির এক সুন্দর মুহূর্ত।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘ইসমাত টিভি’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ওই পুরোহিতকেও পড়ে যাওয়া জিনিসটি তুলতে নিচু হতে দেখা যায়। পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অতিথিদের সম্মান দেখানো এবং তাঁদের নিয়ে বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর বর্ণনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

ভিডিওটির ভেতরে থাকা লেখাতেও বলা হয়, ‘সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ঘটনাটির একটি বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কলম মাটিতে পড়ে গেলে সেটি তুলতে পুরোহিতও নিচু হন। প্রেসিডেন্টও সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্রথমে সেটি তোলার চেষ্টা করেন।’ অর্থাৎ, এটি কোনো ব্যক্তির সামনে প্রেসিডেন্টের আশীর্বাদ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়ার ঘটনা নয়।

এ ছাড়া, ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে ভিড়ের মধ্যে পেজেশকিয়ান ও হিন্দু গুরু দুজনকেই হাসিখুশি অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় তাঁদের নিজেদের মধ্যে এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। ভিডিওর একপর্যায়ে প্রথমে পেজেশকিয়ান এবং এর কিছুক্ষণ পর ওই ধর্মীয় নেতাকে কিছু একটা তুলতে নিচু হতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম News18 এর প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ছড়ানো ব্যাখ্যাটি ভারতে ইরানি দূতাবাসের সূত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ওই নেতার পা ছোঁননি। বরং অন্য একজন নেতা পেজেশকিয়ানকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠিটি অসাবধানতাবশত তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়। এরপর ইরানের প্রেসিডেন্ট সেটি তুলতে ঝুঁকে যান। এটি কোনো ব্যক্তির সামনে প্রেসিডেন্টের আশীর্বাদ নেওয়ার ঘটনা নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ও জগদগুরু স্বামী সতীশাচার্য মহারাজের মধ্যে কথোপকথনের সময় ধারণ করা ভিডিওটি অসম্পূর্ণ বা সম্পাদিতভাবে প্রচার করায় ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ধর্মগুরুর পা ছোঁয়ার জন্য ঝোঁকেননি; বরং পড়ে যাওয়া একটি চিঠি তুলতে তিনি নিচু হয়েছিলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দিল্লিতে হিন্দু গুরুর নেতার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন—এমন দাবিটি সঠিক নয়। মূলত, পেজেশকিয়ানের হাত থেকে পড়ে যাওয়া চিঠি বা কাগজের টুকরো তুলতে নিচু হওয়ার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

‘Mohammad Asif Uddin’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বাবার চোখের সামনেই বিএনপির সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার ছাত্রলীগ কর্মী! মনে রেখো বাংলাদেশ।’

জনপ্রিয় টার্গেট

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

দিল্লিতে ইরানি প্রেসিডেন্টের ভিডিও ভাইরাল, তিনি কি হিন্দু গুরুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন

প্রকাশ: ০৫:০০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘thebasedindian’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একজন হিন্দু ধর্মগুরুর পা স্পর্শ করে আশীর্বাদ নেওয়ার দৃশ্যটি বিনয়, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক সম্প্রীতির এক সুন্দর মুহূর্ত।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘ইসমাত টিভি’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ওই পুরোহিতকেও পড়ে যাওয়া জিনিসটি তুলতে নিচু হতে দেখা যায়। পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অতিথিদের সম্মান দেখানো এবং তাঁদের নিয়ে বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর বর্ণনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

ভিডিওটির ভেতরে থাকা লেখাতেও বলা হয়, ‘সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ঘটনাটির একটি বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কলম মাটিতে পড়ে গেলে সেটি তুলতে পুরোহিতও নিচু হন। প্রেসিডেন্টও সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্রথমে সেটি তোলার চেষ্টা করেন।’ অর্থাৎ, এটি কোনো ব্যক্তির সামনে প্রেসিডেন্টের আশীর্বাদ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়ার ঘটনা নয়।

এ ছাড়া, ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে ভিড়ের মধ্যে পেজেশকিয়ান ও হিন্দু গুরু দুজনকেই হাসিখুশি অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় তাঁদের নিজেদের মধ্যে এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। ভিডিওর একপর্যায়ে প্রথমে পেজেশকিয়ান এবং এর কিছুক্ষণ পর ওই ধর্মীয় নেতাকে কিছু একটা তুলতে নিচু হতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম News18 এর প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ছড়ানো ব্যাখ্যাটি ভারতে ইরানি দূতাবাসের সূত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ওই নেতার পা ছোঁননি। বরং অন্য একজন নেতা পেজেশকিয়ানকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠিটি অসাবধানতাবশত তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়। এরপর ইরানের প্রেসিডেন্ট সেটি তুলতে ঝুঁকে যান। এটি কোনো ব্যক্তির সামনে প্রেসিডেন্টের আশীর্বাদ নেওয়ার ঘটনা নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ও জগদগুরু স্বামী সতীশাচার্য মহারাজের মধ্যে কথোপকথনের সময় ধারণ করা ভিডিওটি অসম্পূর্ণ বা সম্পাদিতভাবে প্রচার করায় ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ধর্মগুরুর পা ছোঁয়ার জন্য ঝোঁকেননি; বরং পড়ে যাওয়া একটি চিঠি তুলতে তিনি নিচু হয়েছিলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দিল্লিতে হিন্দু গুরুর নেতার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন—এমন দাবিটি সঠিক নয়। মূলত, পেজেশকিয়ানের হাত থেকে পড়ে যাওয়া চিঠি বা কাগজের টুকরো তুলতে নিচু হওয়ার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

‘Mohammad Asif Uddin’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বাবার চোখের সামনেই বিএনপির সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার ছাত্রলীগ কর্মী! মনে রেখো বাংলাদেশ।’