২৪ লাখ বেসামরিক ও সামরিক এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর জন্য বার্ষিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার অতিরিক্ত এই ব্যয় এমন এক সময়ে করা হলো, যখন সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির নিষ্পেষণে জর্জরিত। এই বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করতে গিয়ে সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় ও ব্যাংকঋণ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে পুরো অর্থনীতিকে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
রাষ্ট্র শুধু সরকারি লোকদের দ্বারা পরিচালিত হয় না, এখানে বেসরকারি চাকরিজীবীসহ সব পেশাজীবীর অবদানও স্বীকার করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র পুরোপুরি অন্যায্যতার প্রমাণ দিল, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশেষ করে, দেশের শ্রমজীবী মানুষের সিংহভাগই বেসরকারি খাতের অনানুষ্ঠানিক পেশায় নিয়োজিত এবং দেশের বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। যাঁদের কোনো মহার্ঘ ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা বা সরকারি পেনশনের মতো ব্যবস্থা নেই। মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যখন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়া একধরনের নজিরবিহীন বৈষম্য তৈরি করবে নিশ্চিতভাবে।
রাষ্ট্র যখন একটি নির্দিষ্ট বলয়ের গোষ্ঠীদের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়, তখন রাষ্ট্র ও সরকার নিজেই তার সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়! কারণ, সংবিধান রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সমান সুযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তাই এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত সমাজে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেবে, যা কোনো কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের চরিত্র হতে পারে না।
দেশের অর্থনীতির এই নাজুক সময়ে এভাবে বেতন বৃদ্ধি হিতে বিপরীত হতে পারে। একলাফে বিশাল অঙ্কের টাকা বাজারে প্রবেশ করলে তা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিনশেষে নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের কর্মীরা চরম বিপাকে পড়বেন। যদিও অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, তবু এর মূল্যস্ফীতিজনিত অভিঘাত পুরো দেশের ওপরই বর্তাবে।
সরকারি প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার যুক্তি দিয়ে এই পদক্ষেপ সমর্থন করা হলেও সামগ্রিক জনকল্যাণ ও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ওপরই বর্তায়। সাধারণ মানুষের মাথার ওপর বাড়তি মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়ে শুধু সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষা করা দীর্ঘ মেয়াদে আত্মঘাতী হতে পারে। তাই সরকারের উচিত হবে সামষ্টিক অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বিবেচনা করা, অপ্রয়োজনশীল ব্যয় সংকোচন করা এবং আপামর জনসাধারণের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে সমানভাবে নজর দেওয়া।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রযুক্তির বিশ্বায়ন যখন গতি পেতে শুরু করেছিল, তখন মানবসভ্যতা এক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল—সুলভ কায়িক শ্রমের ওপর ভর করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা হবে, নাকি উচ্চপ্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয়তাকে আলিঙ্গন করে নেওয়া হবে? ২০০০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত জার্মান ম্যাগাজিন….
বাংলাদেশে ঋতু ছয়টি। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। তবে এই তালিকাটি অসম্পূর্ণ। মধ্যবিত্তের সংসারের জন্য আরও একটি ঋতু আছে, হতাশার ঋতু। সেটি হলো মাসের শেষ ১০ দিন। এই ঋতুর কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই।
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে যে আলোচনার বিষয় সেটি হলো বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগ হতে পারে দুই প্রকার—দেশি এবং বিদেশি। প্রথমেই আসা যাক বিদেশি বিনিয়োগের আলাপে। আমাদের দেশে বিদেশিরা সাধারণত বিনিয়োগ করে থাকে বস্ত্র খাতে। বেশির ভাগ সময় বিনিয়োগ এ খাতেই বেশি এসেছে।
দৈনিক টার্গেট 
























