পুশইন ঠেকাতে ভারতকে ১৩ চিঠি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনিয়মিতভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে কাউকে ফেরত পাঠাতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোনো দেশের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে লোকজনকে সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নিয়ম ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পুশইনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পালাক্রমে দিন-রাত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সীমান্তে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। কয়েকদিনব্যাপী এই সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তে প্রাণহানি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, চলমান এই বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন নজর রয়েছে আলোচনার ফলাফল এবং উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
