সাবেক আইজিপি মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

জাতীয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার (১৭ নভেম্বর) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে (২০২৪) সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

প্যানেলটি তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার ইতিহাস ও প্রসঙ্গ

এ মামলায় প্রাথমিকভাবে আসামি ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং পরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন যুক্ত হন।

গত ১২ মে, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে। মামুন “অ্যাপ্রুভার” বা রাজসাক্ষী হিসেবে আবেদন করেন এবং দোষ স্বীকার করেন।

তার জবানবন্দিতে, তিনি বলেন যে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্দেশনায় মারণাস্ত্র ব্যবহারের আদেশ দিয়েছিলেন।

মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে, এবং রায় ঘোষণা শুরুতে তার হাজতখানায় রাখা হয়। (যে সকালে রায় ঘোষণা করা হলো, তার সকালে তাকে আদালতে আনা হয়েছিল আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী)।

বিচারক এবং রায়

মামলার রায় ঘোষণা করেন তিন-সদস্য বিশারক প্যানেল, যার চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার।

সাবেক আইজিপি মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি, তার “রাজসাক্ষী” হওয়া ও দোষ স্বীকার করার অংশ হিসেবে, তার সাক্ষ্যকে প্রোসরিউশন পক্ষের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মামুনের বক্তব্য ও ক্ষমা প্রার্থনা

মামুন তার জবানবন্দিতে বলছেন, “আমি সাড়ে ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছি… এমন একটি ঘটনার সঙ্গে আমার দায়িত্ব জড়িত ছিল, তা মেনে নিচ্ছি এবং দায় স্বীকার করছি।”

তিনি ট্রাইব্যুনাল, শহীদদের পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং পুরো দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মামুন আরো জানিয়েছেন যে, জুলাই আন্দোলনের সময় সমন্বয়কদের গ্রেফতারের দায় ডিবি-প্রধান হারুন রশীদকে দেওয়া হয়েছিল।

প্রোসরিউটরের প্রতিক্রিয়া

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, মামুনের জবানবন্দি “শেখ হাসিনার দুঃশাসনের এক অকাট্য দলিল।”

বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার (মামুনের) বিকল্প ভূমিকা আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া প্রোসরিউশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব

যেহেতু মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন, তার দেওয়া তথ্য এখন মামলার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তার সাক্ষ্য শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ গঠন করতে প্রোসরিউশনকে সহায়তা করতে পারে।

একই সময়ে, এই রায় রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, কারণ মামলাটি দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গত বছরের জুলাই-অগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

দৈনিক টার্গেট

দৈনিক টার্গেট বাংলাদেশী সংবাদ