হুতিদের অগ্রযাত্রা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে জটিলতর করবে যেভাবে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পতন ছিল বিস্ময়করভাবে সহজ। এর ফলে হুতিদের হাতে সৌদি আরবের সরবরাহ করা বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম চলে যায়। এই ঘটনার সঙ্গে ২০১৪ সালে আইএসআইএসের হাতে ইরাকের মসুলে ইরাকি সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের বাহিনীর পতনের তুলনা করা হচ্ছে।

এদিকে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি অন্তত আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে বলেও মনে হচ্ছে। একই সময়ে তেলবাজার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের তথ্যও বিশ্লেষণ করছে। ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, হুতিদের লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হুমকির কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশ তাঁর কাছে এই সম্ভাবনা তুলেছেন যে, নৌ অবরোধ ও কঠোর অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান মার্কিন কৌশল অনুসরণ করেও ইরানকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে, নতি স্বীকার করানো সম্ভব নাও হতে পারে।

যুদ্ধ নিয়ে এই হতাশাজনক মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তিত কোনো অবস্থান থেকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রস্তাব দেননি। বরং ইরানের ওপর মার্কিন চাপের চূড়ান্ত ফল কী হওয়া উচিত, তা বোঝাতে ট্রাম্প এখনো ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটি ব্যবহার করে চলেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি, যিনি আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কোনো আলোচনার কৌশল তৈরি করবেন। ট্রাম্পের সহযোগীদের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, সীমিত যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের বর্তমান অবস্থা যত দিন প্রয়োজন তত দিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, এমনকি শেষ পর্যন্ত এটি যদি তাঁর উত্তরসূরির হাতে তুলে দিতে হয় তবুও।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অবস্থান এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট কর্তৃত্ব তাঁর হাতে না থাকায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে সরাসরি সংঘাতে যেতে চাইছেন না বলেই মনে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের সর্বত্র সতর্কসংকেত বাজিয়ে দেওয়ার মতো। তেলের বাজার অবশেষে গ্রীষ্মের আত্মতুষ্টি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। হুতিদের বিজয়ের খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো এক ধরনের মেকি নিরাপত্তাবোধের মধ্যে রয়েছেন, কারণ তারা তেলের বাজারের পরিমাণগত বিশ্লেষণের সঙ্গে পরিচিত নন।

ডিজেলের সরবরাহও সংকটে পড়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারে পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষের কাছে পেট্রোলের দাম বেশি দৃশ্যমান হলেও অর্থনীতিবিদরা জানেন, ডিজেলের দাম মূল্যস্ফীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলে।

এসব কারণে আগামী সপ্তাহে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার কম সুদের এবং সহজ অর্থনীতির নীতির পক্ষে তাঁর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রায়ই হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে ‘ওমান রুটে’ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পাহারায় চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা তুলে ধরছেন। কিন্তু বেসরকারি খাতের অধিকাংশ মানুষ প্রকাশ্যে দেওয়া এসব সংখ্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কারণ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিলেও স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে বিশ্লেষকেরা এসব জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এর পাশাপাশি, বীমা সুবিধার অভাবও এই জাহাজ চলাচল সীমিত করছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ওমান উপসাগরের দিকে যে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে, সেগুলোর মালিকানা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জাতীয় তেল কোম্পানিগুলোর হাতে। ফলে তারা ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা রাখে। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজগুলো সেই ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এটি স্বীকার করা হয়তো প্রায় নিষিদ্ধ বিষয় হতে পারে। কিন্তু বেসরকারি খাতের অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে যে গড় পরিমাণ তেল বের হচ্ছে, তা খুব বেশি বাড়বে না। এর সঙ্গে ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য ও তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্তত আপাতত সেই পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে, যেটি সৌদি আরবের তেলকে লোহিত সাগরের টার্মিনালগুলোতে পৌঁছে দেয়।

পাইপলাইনটি মেরামত করা হবে। কিন্তু আবারও সেখানে হামলা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখলে তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। শেষ পর্যন্ত চাহিদা কমে গেলে দাম কমতে পারে। অর্থনীতিবিদদের অধিকাংশের ধারণা, সেই চাহিদা কমার প্রধান কারণ হবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়া।

তেলের বাজারের বাইরের মানুষের কাছে হয়তো ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের তেলের দামের আশঙ্কা এখন অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবশেষে, বর্তমান অবস্থা আরও দুই বছর ধরে চললে যে অসহনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অবস্থানের ওপর আরও বড় ক্ষতি হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া—যার এখনো একটি বিকল্প পাইপলাইন চালু আছে—উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলো সরাসরি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ছে। ইরাক কিছু তেল প্রবাহ অন্য পথে সরিয়ে নিয়ে আবার চালু করেছে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটি এমন এক বাজেট সংকটে পড়তে পারে, যা আর সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

কাতারের সম্পদ আছে। কিন্তু এলএনজি বা তেল থেকে বর্তমানে তাদের আয় খুবই কম। মিসরও উচ্চ তেলের দাম এবং সুয়েজ খাল থেকে রাজস্বের তীব্র পতনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুয়েজ খালের এই রাজস্ব দেশটির রাষ্ট্রীয় বাজেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এগুলো কেবল কয়েকটি উদাহরণ। অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের এই দুরবস্থার প্রতি উদাসীন থাকে, তাহলে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন কৌশল প্রয়োজন। কারণ প্রশাসন এখন বুঝতে পারছে বলে মনে হচ্ছে যে বর্তমান পদ্ধতিতে গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর উল্লেখযোগ্য পার্শ্বক্ষতিও তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতিকে আর ‘যেভাবে ইচ্ছা চলুক’ভাবে চলতে দেওয়া যায় না। কিন্তু ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যে কে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে এই বার্তাটি দিতে প্রস্তুত?

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্রিটিশ মুসলমানরা কতটা ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হতে পেরেছেন? এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি। এই জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান।

ইসরায়েল কি সত্যিই সামরিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ আরও গভীর ও ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদারত্বে রূপ নিচ্ছে? ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির ‘সুপার স্পার্টা’ হয়ে ওঠার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পথগুলো ক্রমেই কমে আসছে। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কিছু ধরনের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

টিনশেডের নোংরা ঘরে তৈরী হচ্ছে বেকারি সামগ্রী, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

হুতিদের অগ্রযাত্রা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে জটিলতর করবে যেভাবে

প্রকাশ: ০৩:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পতন ছিল বিস্ময়করভাবে সহজ। এর ফলে হুতিদের হাতে সৌদি আরবের সরবরাহ করা বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম চলে যায়। এই ঘটনার সঙ্গে ২০১৪ সালে আইএসআইএসের হাতে ইরাকের মসুলে ইরাকি সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের বাহিনীর পতনের তুলনা করা হচ্ছে।

এদিকে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি অন্তত আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে বলেও মনে হচ্ছে। একই সময়ে তেলবাজার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের তথ্যও বিশ্লেষণ করছে। ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, হুতিদের লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হুমকির কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশ তাঁর কাছে এই সম্ভাবনা তুলেছেন যে, নৌ অবরোধ ও কঠোর অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান মার্কিন কৌশল অনুসরণ করেও ইরানকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে, নতি স্বীকার করানো সম্ভব নাও হতে পারে।

যুদ্ধ নিয়ে এই হতাশাজনক মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তিত কোনো অবস্থান থেকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রস্তাব দেননি। বরং ইরানের ওপর মার্কিন চাপের চূড়ান্ত ফল কী হওয়া উচিত, তা বোঝাতে ট্রাম্প এখনো ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটি ব্যবহার করে চলেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি, যিনি আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কোনো আলোচনার কৌশল তৈরি করবেন। ট্রাম্পের সহযোগীদের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, সীমিত যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের বর্তমান অবস্থা যত দিন প্রয়োজন তত দিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, এমনকি শেষ পর্যন্ত এটি যদি তাঁর উত্তরসূরির হাতে তুলে দিতে হয় তবুও।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অবস্থান এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট কর্তৃত্ব তাঁর হাতে না থাকায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে সরাসরি সংঘাতে যেতে চাইছেন না বলেই মনে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের সর্বত্র সতর্কসংকেত বাজিয়ে দেওয়ার মতো। তেলের বাজার অবশেষে গ্রীষ্মের আত্মতুষ্টি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। হুতিদের বিজয়ের খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো এক ধরনের মেকি নিরাপত্তাবোধের মধ্যে রয়েছেন, কারণ তারা তেলের বাজারের পরিমাণগত বিশ্লেষণের সঙ্গে পরিচিত নন।

ডিজেলের সরবরাহও সংকটে পড়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারে পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষের কাছে পেট্রোলের দাম বেশি দৃশ্যমান হলেও অর্থনীতিবিদরা জানেন, ডিজেলের দাম মূল্যস্ফীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলে।

এসব কারণে আগামী সপ্তাহে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার কম সুদের এবং সহজ অর্থনীতির নীতির পক্ষে তাঁর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রায়ই হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে ‘ওমান রুটে’ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পাহারায় চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা তুলে ধরছেন। কিন্তু বেসরকারি খাতের অধিকাংশ মানুষ প্রকাশ্যে দেওয়া এসব সংখ্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কারণ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিলেও স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে বিশ্লেষকেরা এসব জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এর পাশাপাশি, বীমা সুবিধার অভাবও এই জাহাজ চলাচল সীমিত করছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ওমান উপসাগরের দিকে যে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে, সেগুলোর মালিকানা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জাতীয় তেল কোম্পানিগুলোর হাতে। ফলে তারা ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা রাখে। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজগুলো সেই ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এটি স্বীকার করা হয়তো প্রায় নিষিদ্ধ বিষয় হতে পারে। কিন্তু বেসরকারি খাতের অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে যে গড় পরিমাণ তেল বের হচ্ছে, তা খুব বেশি বাড়বে না। এর সঙ্গে ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য ও তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্তত আপাতত সেই পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে, যেটি সৌদি আরবের তেলকে লোহিত সাগরের টার্মিনালগুলোতে পৌঁছে দেয়।

পাইপলাইনটি মেরামত করা হবে। কিন্তু আবারও সেখানে হামলা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখলে তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। শেষ পর্যন্ত চাহিদা কমে গেলে দাম কমতে পারে। অর্থনীতিবিদদের অধিকাংশের ধারণা, সেই চাহিদা কমার প্রধান কারণ হবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়া।

তেলের বাজারের বাইরের মানুষের কাছে হয়তো ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের তেলের দামের আশঙ্কা এখন অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবশেষে, বর্তমান অবস্থা আরও দুই বছর ধরে চললে যে অসহনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অবস্থানের ওপর আরও বড় ক্ষতি হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া—যার এখনো একটি বিকল্প পাইপলাইন চালু আছে—উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলো সরাসরি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ছে। ইরাক কিছু তেল প্রবাহ অন্য পথে সরিয়ে নিয়ে আবার চালু করেছে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটি এমন এক বাজেট সংকটে পড়তে পারে, যা আর সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

কাতারের সম্পদ আছে। কিন্তু এলএনজি বা তেল থেকে বর্তমানে তাদের আয় খুবই কম। মিসরও উচ্চ তেলের দাম এবং সুয়েজ খাল থেকে রাজস্বের তীব্র পতনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুয়েজ খালের এই রাজস্ব দেশটির রাষ্ট্রীয় বাজেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এগুলো কেবল কয়েকটি উদাহরণ। অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের এই দুরবস্থার প্রতি উদাসীন থাকে, তাহলে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন কৌশল প্রয়োজন। কারণ প্রশাসন এখন বুঝতে পারছে বলে মনে হচ্ছে যে বর্তমান পদ্ধতিতে গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর উল্লেখযোগ্য পার্শ্বক্ষতিও তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতিকে আর ‘যেভাবে ইচ্ছা চলুক’ভাবে চলতে দেওয়া যায় না। কিন্তু ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যে কে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে এই বার্তাটি দিতে প্রস্তুত?

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্রিটিশ মুসলমানরা কতটা ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হতে পেরেছেন? এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি। এই জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান।

ইসরায়েল কি সত্যিই সামরিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ আরও গভীর ও ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদারত্বে রূপ নিচ্ছে? ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির ‘সুপার স্পার্টা’ হয়ে ওঠার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পথগুলো ক্রমেই কমে আসছে। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কিছু ধরনের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিতে পারে বলে মনে হচ্ছে।