ফজলুর রহমানকে ‘আতঙ্কের নাম’ বললেন রাশেদ খাঁন
জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীনদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা। এই প্রেক্ষাপটে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য করে বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বর্তমানে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের জন্য এক ধরনের ‘আতঙ্কের নাম’। তিনি ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশন আগের তুলনায় অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং এর পেছনে ফজলুর রহমানের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ওই পোস্টে রাশেদ খাঁন ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে আরও বলেন, সংসদে যদি কখনো গালাগালির প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, তাহলে কিছু সংসদ সদস্য সহজেই শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারবেন। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে এমন একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন, যা তার বক্তব্যে রাজনৈতিক বিদ্রূপের রূপ নেয়।
এদিকে, সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তার বক্তব্য চলাকালে সংসদে হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করেন এবং সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিতর্কের মধ্যে ফজলুর রহমান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। তার মতে, এমনটি হলে তা দ্বিগুণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি আরও মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্বল্পমেয়াদি কোনো গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বকে খাটো করে।
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতিও প্রকাশ করেন, যা সংসদের পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
