মুক্তিযোদ্ধা ও জামায়াত নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক

রাজনীতি

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবকে ঘিরে মঙ্গলবার বিকেলে তীব্র রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে তা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তার এই মন্তব্যের পরই বিরোধীদলীয় বেঞ্চ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং সংসদ কক্ষে হট্টগোল দেখা দেয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠে ফজলুর রহমানের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফজলুর রহমান সম্মানিত হলেও অন্যের অবদানকে খাটো করে দেখানো উচিত নয়।

শফিকুর রহমান নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি একজন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ বেছে নেওয়া তার সাংবিধানিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনুমতি নিয়ে রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ ঘটনায় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাজনৈতিক আদর্শ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।