হাওরের কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা: প্রধানমন্ত্রী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৯ বার পঠিত হয়েছে

জাতীয় সংসদে হাওরাঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক পানির চাপে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সংসদে এক আলোচনায় হাওর এলাকার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং কৃষকেরা ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সরকার গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনকে আগাম সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের ফসল সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কোটি কোটি মানুষকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে। এই সহায়তা প্রদানে নতুন করে টাকা ছাপানো হবে না, ফলে অর্থনীতিতে চাপ বা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, একবারে সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, তাই পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে আগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।তথ্য সংগ্রহ ও বাজেট সামঞ্জস্য রেখে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এদিকে রাজধানী উন্নয়ন প্রসঙ্গেও সংসদে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। এর আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, হাওরাঞ্চলের সংকট মোকাবিলা থেকে শুরু করে নগর উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।

জনপ্রিয় টার্গেট

হাওরের কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে হাওরাঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক পানির চাপে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সংসদে এক আলোচনায় হাওর এলাকার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং কৃষকেরা ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সরকার গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনকে আগাম সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের ফসল সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কোটি কোটি মানুষকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে। এই সহায়তা প্রদানে নতুন করে টাকা ছাপানো হবে না, ফলে অর্থনীতিতে চাপ বা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, একবারে সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, তাই পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে আগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।তথ্য সংগ্রহ ও বাজেট সামঞ্জস্য রেখে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এদিকে রাজধানী উন্নয়ন প্রসঙ্গেও সংসদে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। এর আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, হাওরাঞ্চলের সংকট মোকাবিলা থেকে শুরু করে নগর উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।