এনসিপি রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়েছে: রাশেদ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত হয়েছে

নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় গিয়ে নিজেদের আদর্শিক অবস্থান দুর্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তার দাবি, এনসিপি শুরুতে যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলেছিল, পরবর্তীতে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির নেতারা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্কিত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা জোট করবে না। কিন্তু বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা সেই ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলটির নেতা পাটোয়ারী অতীতে জামায়াতকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ এখন একই দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করায় জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, এনসিপি শুধু সাধারণ জনগণকেই নয়, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে অসততা করেছে। তার ভাষ্যমতে, একসময় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে এনসিপির অন্যতম যুক্তি ছিল জামায়াতের সঙ্গে একমঞ্চে না থাকা। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অবস্থান পাল্টে ফেলা তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম-এর একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও টানেন। সেখানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, শুরু থেকেই তিনি এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সন্দেহে ছিলেন। তার মতে, দলটি মূলত বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতেই নতুন রাজনৈতিক জোটের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর-এর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন বলে জানান।

পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ধরনের সংস্কার প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার অনেক কিছুই দৃশ্যমান হয়নি। এজন্য এনসিপির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, ভবিষ্যতে এনসিপির নেতৃত্বের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখা গেলেও সেটি অস্বাভাবিক হবে না।

সবশেষে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ডও বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে মত দেন তিনি।

এনসিপি রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়েছে: রাশেদ

প্রকাশ: ০২:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় গিয়ে নিজেদের আদর্শিক অবস্থান দুর্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তার দাবি, এনসিপি শুরুতে যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলেছিল, পরবর্তীতে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির নেতারা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্কিত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা জোট করবে না। কিন্তু বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা সেই ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলটির নেতা পাটোয়ারী অতীতে জামায়াতকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ এখন একই দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করায় জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, এনসিপি শুধু সাধারণ জনগণকেই নয়, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে অসততা করেছে। তার ভাষ্যমতে, একসময় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে এনসিপির অন্যতম যুক্তি ছিল জামায়াতের সঙ্গে একমঞ্চে না থাকা। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অবস্থান পাল্টে ফেলা তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম-এর একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও টানেন। সেখানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, শুরু থেকেই তিনি এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সন্দেহে ছিলেন। তার মতে, দলটি মূলত বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতেই নতুন রাজনৈতিক জোটের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর-এর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন বলে জানান।

পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ধরনের সংস্কার প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার অনেক কিছুই দৃশ্যমান হয়নি। এজন্য এনসিপির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, ভবিষ্যতে এনসিপির নেতৃত্বের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখা গেলেও সেটি অস্বাভাবিক হবে না।

সবশেষে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ডও বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে মত দেন তিনি।