নাহিদ ইসলামের অভিযোগ: ব্যাংক খাতে নতুন লুটপাটের শঙ্কা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ৬৭ বার পঠিত হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতের বিতর্কিত আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের সংস্কৃতি এখনো বন্ধ হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছিল, বর্তমান সময়েও একই ধরনের প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন করে কারা দেশের অর্থনীতিতে ‘এস আলম’ বা ‘সালমান এফ রহমান’-এর মতো প্রভাবশালী চরিত্রে পরিণত হচ্ছে, তা নিয়ে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের বাজেট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এনসিপির ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটি। সমাপনী বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে বড় সুযোগ ছিল রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার। কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তার দাবি, জুলাই সনদে উল্লেখিত রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় অর্থনৈতিক সংস্কারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আগে দেশীয় উদ্যোক্তা ও সৎ ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও ঋণখেলাপিদের প্রভাব থাকায় সেই আস্থা তৈরি হচ্ছে না। অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখা হলে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের বড় বড় করপোরেট গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর পরিশোধ না করলেও সাধারণ মানুষ সামান্য ঋণের দায়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। তার মতে, এই বৈষম্যমূলক বাস্তবতা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংকট মোকাবিলায় সব তথ্য জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে এবং দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করতে হবে।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারাও দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাজেটে জনকল্যাণমূলক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ: ব্যাংক খাতে নতুন লুটপাটের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৩:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতের বিতর্কিত আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের সংস্কৃতি এখনো বন্ধ হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছিল, বর্তমান সময়েও একই ধরনের প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন করে কারা দেশের অর্থনীতিতে ‘এস আলম’ বা ‘সালমান এফ রহমান’-এর মতো প্রভাবশালী চরিত্রে পরিণত হচ্ছে, তা নিয়ে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের বাজেট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এনসিপির ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটি। সমাপনী বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে বড় সুযোগ ছিল রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার। কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তার দাবি, জুলাই সনদে উল্লেখিত রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় অর্থনৈতিক সংস্কারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আগে দেশীয় উদ্যোক্তা ও সৎ ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও ঋণখেলাপিদের প্রভাব থাকায় সেই আস্থা তৈরি হচ্ছে না। অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখা হলে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের বড় বড় করপোরেট গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর পরিশোধ না করলেও সাধারণ মানুষ সামান্য ঋণের দায়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। তার মতে, এই বৈষম্যমূলক বাস্তবতা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংকট মোকাবিলায় সব তথ্য জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে এবং দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করতে হবে।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারাও দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাজেটে জনকল্যাণমূলক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।