সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে জিততে হতো ৪১ রানে। আর সেটার জন্য দরকার ছিল বড় একটা স্কোর। কিন্তু বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশ বড় স্কোর করবে কি, উল্টো ১৬০ রানেই অলআউট। ব্যাটিংই যে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার আরেক নাম, সেটা প্রমাণ করে আফগানদের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ল দলের ব্যাটিং লাইনআপ। গতকাল শারজায় ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এসে হেসে খেলেই ৭ উইকেটে জিতল আফগানিস্তান। ত্রিদেশীয় ওয়াডে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে আফগানরা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের।
১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর ফাইনাল উঠতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানে থামিয়ে দিয়ে জিততে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু সেটি যে হওয়ার নয় তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। লক্ষ্য তাড়ায় এসে দলীয় ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬), ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) এবং ৯৫ রানে ইব্রাহিম জাদরান (৩৪) আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। চার নম্বরে উইকেটে এসে রহমত শাহ দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। ৫ চারে ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। হাসমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। আফগানদের পতন হওয়া তিন উইকেটের ২টি নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, ১টি মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রথম ম্যাচের জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও কেন ব্যাটিং ব্যর্থতা? বলের মেরিট না বুঝে ভুল শট নির্বাচনের সেই চিরাচরিত সমস্যা ব্যাটারদের। তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর কথাই ধরুন না। তিনজনই আউট হয়েছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে খেলতে গিয়ে। অনুজদের দুর্দশা দেখে জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েস ফেসবুক পোস্টে বিসিবিকেই ধুয়ে দিলেন। দল নির্বাচনে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কিংবা স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়ে লিখলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট পুরো একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতি কিংবা পছন্দের সুযোগ থাকার কোনো স্থান নেই। এখন সময় এসেছে মেধা, সততা এবং দেশের স্বার্থকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার।’
তানজিদ (১), সৌম্য (০), শান্তর (১৫) পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ হারায় অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কেও। সপ্তম ওভারে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। এরপর ৫ম উইকেট জুটিতে ওপেনার সাইফ হাসানের সঙ্গে পারভেজ হোসেনের ১৪৭ বলে ৯৩ রানের জুটি। সাইফের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। আউট হওয়ার আগে ২টি চার ১টি ছয়ে ৮২ বলে ৪১ রান করেন সাইফ।
সাইফের বিদায়ের পর আবার নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন। তাতেই ১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন ইমন। তাঁর ৯৬ বলের ইনিংসটিতে আছে ৫টি চার আর ২টি ছয়। বল হাতে সবচেয়ে সফল রশিদ খান। আফগান এই স্পিনার ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

দৈনিক টার্গেট 




























