বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। সাম্প্রতিক অস্থিরতা, পদত্যাগ এবং নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অবশেষে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ।
মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আমিনুল এহসান, যিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি ও অনিয়ম উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পদত্যাগ ও অনিয়মের অভিযোগ
বর্তমান বোর্ডে মোট ২৫ জন পরিচালক থাকলেও ইতোমধ্যে ৭ জন পদত্যাগ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। যদিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা
পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহিনী, রফিকুল ইসলাম, ফাহিম সিনহা
আইসিসির অনুমোদন নিয়ে আশা
নতুন কমিটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আমিনুল এহসান আশা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখবে এবং অ্যাডহক কমিটিকে অনুমোদন দেবে।
সামনে কী?
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিতর্ক দূর করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী নেতৃত্ব গঠন করা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই রদবদল ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
















Leave a Reply