ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে যে সর্বশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা তার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রস্তাবটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর নয় বলে তার মনে হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নেতৃত্ব কাঠামোতে বড় ধরনের বিভক্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, দেশটির ক্ষমতার ভেতরে একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা আলোচনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ইরানকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সামরিক দিক থেকেও ইরান আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নতুন করে শক্ত অবস্থানে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি যা তাদের সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়েও ট্রাম্প সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করেন। যদিও পাকিস্তানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি, তবুও তেহরানের সঙ্গে কার্যকর সমাধানে ইসলামাবাদের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় থাকতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনও চালু থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমাধান অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে অঞ্চলটিতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।















Leave a Reply