এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মহারাষ্ট্রের মিরা-ভায়ান্দরের কাশিমিরা পুলিশ স্টেশন এই ঘটনায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ নথিভুক্ত করেছে। এটি পরবর্তীতে ঘটনাস্থল উত্তর প্রদেশের মথুরায় স্থানান্তরিত করা হবে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আশ্রমে থাকা অবস্থায় গভীর রাতে ইন্দ্রদেব তাঁকে নিজ কক্ষে ডেকে পাঠাতেন এবং দরজা বন্ধ করে যৌন নির্যাতন চালাতেন। কেউ জিজ্ঞাসাবাদ করলে ‘ওষুধ আনতে যাচ্ছেন’—এমন অজুহাত দিতে বলা হয়েছিল তাঁকে।
তবে শুধু আশ্রমে নির্যাতনের মধ্যেই থেমে থাকেননি ওই ধর্মগুরু। আশ্রম ছাড়ার পর ফোন ও ভিডিও কলে ভুক্তভোগী নারীকে পোশাক খুলতে বাধ্য করতেন এবং তা রেকর্ড করে রাখতেন। ভুক্তভোগী এতে অস্বীকৃতি জানালে জনসম্মুখে তাঁর চরিত্রহনন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি বলতেন, ‘আমি ঈশ্বর, আর আমার আজ্ঞা পালন করা তোমার বাধ্যবাধকতা।’
ভুক্তভোগী নারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মথুরায় গিয়ে অভিযোগের চেষ্টা করলেও স্থানীয় প্রশাসন তা গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে সামাজিক সংগঠন ‘ভূমাতা ব্রিগেড’-এর সভাপতি ও নারী অধিকার কর্মী তৃপ্তি দেশাইয়ের হস্তক্ষেপে মহারাষ্ট্রে এই জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়।
সংগঠনটির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী তাঁর দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। সে সময় আরও কয়েকজন নারী উপস্থিত হয়ে ধর্মগুরু ইন্দ্রদেবের বিরুদ্ধে একই ধরনের শারীরিক ও মানসিক শোষণের অভিযোগ তোলেন।
তৃপ্তি দেশাই অভিযুক্ত ধর্মগুরুর দ্রুত গ্রেপ্তার ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, ‘নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে যাঁরা এ ধরনের শোষণে লিপ্ত হন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নারীদের আর চুপ না থেকে সরব হওয়ার সময় এসেছে।’

দৈনিক টার্গেট 

























