ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোনে বড় ভূমিকম্প ঘটলে আছড়ে পড়তে পারে এক হাজার ফুট উচ্চতার সুনামি, ঝুঁকিতে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল

মার্কিন উপকূলে ভয়াবহ ‘মেগা সুনামি’র আশঙ্কা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫
  • ১৮৮ বার পঠিত হয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলজুড়ে এক ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোনে (Cascadia Subduction Zone) যেকোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।

আর এর ফলেই সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ ‘মেগা সুনামি’, যা কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জনজীবন ও ভৌগোলিক অবস্থান পাল্টে দিতে পারে।

ক্যাসকাডিয়া ফল্টলাইন: ঘুমন্ত দানব

প্রায় ৬০০ মাইল দীর্ঘ এই সক্রিয় ফল্টলাইন উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু হয়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে হুয়ান দে ফুকা টেকটোনিক প্লেট ক্রমাগত উত্তর আমেরিকান প্লেটের নিচে সরে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভে প্রচণ্ড চাপ জমা হচ্ছে, যা যে কোনো মুহূর্তে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভার্জিনিয়াভিত্তিক গবেষক দলটির নেতৃত্বে থাকা ভূ-বিজ্ঞানী টিনা দুরা জানিয়েছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে এই এলাকায় ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ১৫ শতাংশ। আর সেই ভূমিকম্পই হতে পারে ‘মেগা সুনামি’র মূল উৎস।

কোন অঙ্গরাজ্য বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন, ওরেগন ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ভূমিকম্পের পর সিয়াটল ও পোর্টল্যান্ডের মতো বড় শহরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, বড় ধরনের ধাক্কায় উপকূলীয় ভূমি প্রায় ৬.৫ ফুট নিচে বসে যেতে পারে, যার পরপরই আঘাত হানতে পারে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু সুনামি। শুধু পশ্চিম উপকূল নয়, আলাস্কা ও হাওয়াইও এ দুর্যোগের বাইরে নয়।

‘মেগা সুনামি’ আসলে কী?

সাধারণ সুনামির ঢেউ তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতার হলেও, মেগা সুনামি শত শত ফুট উঁচু হতে পারে। এর উৎপত্তি ঘটে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বরফগিরি ধসে পড়া কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ড আঘাতের মতো ঘটনাগুলো থেকে। বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে ভেতরের স্থলভাগে প্রবেশ করে অল্প সময়েই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোনে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ১৭০০ সালে। তার পর থেকে এই এলাকা অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ বিরতিই আবার ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি প্রবণতার কারণে আলাস্কা ও হাওয়াইকেও সম্ভাব্য ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি এই ভূমিকম্প ও সুনামি একসঙ্গে ঘটে, তবে শুধু অবকাঠামো নয়, লাখ লাখ মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়বে। উপকূলীয় ভূমি ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারের সময়কাল দীর্ঘায়িত হবে, যা আর্থসামাজিক দিক থেকেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোনে বড় ভূমিকম্প ঘটলে আছড়ে পড়তে পারে এক হাজার ফুট উচ্চতার সুনামি, ঝুঁকিতে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল

মার্কিন উপকূলে ভয়াবহ ‘মেগা সুনামি’র আশঙ্কা

প্রকাশ: ০১:০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলজুড়ে এক ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোনে (Cascadia Subduction Zone) যেকোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।

আর এর ফলেই সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ ‘মেগা সুনামি’, যা কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জনজীবন ও ভৌগোলিক অবস্থান পাল্টে দিতে পারে।

ক্যাসকাডিয়া ফল্টলাইন: ঘুমন্ত দানব

প্রায় ৬০০ মাইল দীর্ঘ এই সক্রিয় ফল্টলাইন উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু হয়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে হুয়ান দে ফুকা টেকটোনিক প্লেট ক্রমাগত উত্তর আমেরিকান প্লেটের নিচে সরে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভে প্রচণ্ড চাপ জমা হচ্ছে, যা যে কোনো মুহূর্তে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভার্জিনিয়াভিত্তিক গবেষক দলটির নেতৃত্বে থাকা ভূ-বিজ্ঞানী টিনা দুরা জানিয়েছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে এই এলাকায় ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ১৫ শতাংশ। আর সেই ভূমিকম্পই হতে পারে ‘মেগা সুনামি’র মূল উৎস।

কোন অঙ্গরাজ্য বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন, ওরেগন ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ভূমিকম্পের পর সিয়াটল ও পোর্টল্যান্ডের মতো বড় শহরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, বড় ধরনের ধাক্কায় উপকূলীয় ভূমি প্রায় ৬.৫ ফুট নিচে বসে যেতে পারে, যার পরপরই আঘাত হানতে পারে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু সুনামি। শুধু পশ্চিম উপকূল নয়, আলাস্কা ও হাওয়াইও এ দুর্যোগের বাইরে নয়।

‘মেগা সুনামি’ আসলে কী?

সাধারণ সুনামির ঢেউ তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতার হলেও, মেগা সুনামি শত শত ফুট উঁচু হতে পারে। এর উৎপত্তি ঘটে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বরফগিরি ধসে পড়া কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ড আঘাতের মতো ঘটনাগুলো থেকে। বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে ভেতরের স্থলভাগে প্রবেশ করে অল্প সময়েই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোনে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ১৭০০ সালে। তার পর থেকে এই এলাকা অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ বিরতিই আবার ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি প্রবণতার কারণে আলাস্কা ও হাওয়াইকেও সম্ভাব্য ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি এই ভূমিকম্প ও সুনামি একসঙ্গে ঘটে, তবে শুধু অবকাঠামো নয়, লাখ লাখ মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়বে। উপকূলীয় ভূমি ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারের সময়কাল দীর্ঘায়িত হবে, যা আর্থসামাজিক দিক থেকেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।