মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনো জটিল রয়ে গেছে। ইরানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক সমঝোতায় রাজি হলেও, সেই কাঠামোর বাইরে অবস্থান নিয়েছে ইসরাইল-বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার উদ্যোগে তারা সমর্থন দিচ্ছে। এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি থেকে বিরত রাখা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনায় এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে এই অবস্থান ইরানের দেওয়া শর্তের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ ইরানের প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—লেবাননসহ সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। এই শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলেও ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে স্পষ্ট হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের সহযোগীরা সর্বত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং তা দ্রুত কার্যকর হবে। কিন্তু ইসরাইলের সাম্প্রতিক অবস্থান সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
লেবানন পরিস্থিতি গত মার্চ মাস থেকে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা চালালে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। গোষ্ঠীটি দাবি করে, তাদের এই হামলা ছিল ইরানের শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া।
এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি স্থল অভিযানের খবরও পাওয়া গেছে, যেখানে ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির উদ্দেশ্যে আরও এলাকা দখলের চেষ্টা চলছে।
নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ইসরাইল লেবাননে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রস্তুত নয়। এতে করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের এই অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কূটনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।















Leave a Reply