লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল–জাদিদ বা দ্য নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে, নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির নতুন ব্যাচগুলোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিসি ব্যাখ্যা করেন, এমন পদক্ষেপের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টকে একটি জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আমাদের কাছে অনুরোধ করা হলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়।’ সিসি জোর দিয়ে বলেন যে, কায়রো কাউকে আক্রমণ করতে বা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না, বরং সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সুরক্ষাই এর লক্ষ্য। তবে সম্ভাব্য এই হস্তক্ষেপের প্রকৃতি, পরিধি বা সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কোনো বিস্তারিত জানাননি।
ইয়েমেনের হুতিরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরামকোর একটি ভবন, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
মিসরীয় সংবিধানের ১৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট দেশটির সীমানার বাইরে কোনো সামরিক মিশনে সশস্ত্র বাহিনীকে পাঠাতে পারবেন না বা যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন না—যদি না তিনি প্রথমে জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রতিনিধি পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন নেন।
এর দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার পুলিশ একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক বৈঠকে সিসি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা সরাসরি মিসরীয় এবং আরব জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা ও সীমান্তের পাশাপাশি লোহিত সাগরে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর যেকোনো হুমকি কায়রো প্রত্যাখ্যান করে।
এর আগে ব্লুমবার্গের সঙ্গে ব্যাংককে আইএমএফ বৈঠকের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছিলেন, সৌদি আরবের যেকোনো অনুরোধে মিসর সাড়া দেবে এবং সামরিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি কায়রো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
একই সঙ্গে কায়রো তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও বজায় রেখেছে। গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোনালাপে আবদেলাত্তি সৌদি ভূখণ্ডে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার ওপর জোর দেন এবং সেগুলোকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

দৈনিক টার্গেট 

























