‘দরুদ’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ শুভকামনা বা কল্যাণ প্রার্থনা। পরিভাষায় নবীজির প্রতি শুভকামনা প্রকাশ করাকে দরুদ বলা হয়। দোয়া কবুলের শর্ত হিসেবে দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। হজরত ওমর ফারুক (রা.) বলেছেন, দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও জমিনের মাঝখানে আটকে থাকে, যতক্ষণ না নবীজির ওপর দরুদ পড়া হয়। (জামে তিরমিজি)
১. যে ব্যক্তি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন, তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেবেন। (সুনানে নাসায়ি)
২. কিয়ামত দিবসে ওই ব্যক্তিই নবীজির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকবে, যে দুনিয়াতে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে। (জামে তিরমিজি)
৩. যে ব্যক্তির সামনে নবীজির নাম উচ্চারিত হয় অথচ সে দরুদ পড়ে না, হাদিসের ভাষায় সে কৃপণ ও দুর্ভাগা।
সাধারণত পবিত্র অবস্থায় যেকোনো সময় দরুদ পড়া যায়। তবে বিশেষ কিছু সময়ে দরুদ পাঠ করতে হয়। যেমন—
ক. দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে এবং চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহুদের পর।
খ. নবীজির নাম শুনলে বা উচ্চারণ করলে।
গ. যেকোনো দোয়া করার আগে ও পরে।
ঘ. কোনো মজলিশ বা বৈঠক থেকে ওঠার আগে।
ঙ. আজানের পর নির্ধারিত দোয়া পড়ার আগে।
চ. মসজিদে প্রবেশের সময় এবং মদিনায় রওজা জিয়ারতের সময়।
ছ. কোনো বই, চিঠি বা লেখালেখির শুরুতে।
নিয়মিত দরুদ পাঠের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি, অফুরন্ত সওয়াব এবং পরকালে রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত লাভ করতে পারে।

দৈনিক টার্গেট 

























