মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ সারজিসের

রাজনীতি

রাজশাহীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির বিরুদ্ধে মিডিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর আচরণেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস আলম বলেন, দেশের মানুষ একসময় ধানের শীষে ভোট দিয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র প্রতি আস্থা থেকে। তিনি মনে করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন জনগণের কাছ থেকে একটি বড় সুযোগ পেয়েছেন, তবে সেই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হবে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মিডিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশে যে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, সেই একই ধরনের কর্মকাণ্ড আবারও ফিরে আসছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সারজিস আলম আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা, বিদেশি প্রভাব ও রাজনৈতিক দখলদারিত্বের মতো বিষয়গুলোতে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তার দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি কিছু গোষ্ঠী এমন আচরণ শুরু করে, তাহলে দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেলেও দেশের একটি বড় অংশ এখনও দলটির প্রতি আস্থা রাখতে পারেনি। এমনকি যারা ভোট দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও অল্প সময়ের ব্যবধানে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ এসব বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।