এভারেস্টে ভিড়ের মাঝেও রেকর্ড গড়লেন ২৭৪ পর্বতারোহী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১৪৩ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন পর্বতারোহীরা। নেপালের দিক থেকে মাত্র একদিনেই ২৭৪ জন অভিযাত্রী সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন, যা দেশটির ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নেপালের পর্বতারোহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিপুলসংখ্যক আরোহী একসঙ্গে শীর্ষে পৌঁছানোর সুযোগ পান। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে নেপালের দিক থেকে এক দিনে ২২৩ জন পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এই পর্বত নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে অবস্থিত। সাধারণত দুই দিক থেকেই অভিযাত্রীরা এভারেস্টে আরোহণ করেন। তবে চলতি মৌসুমে চীনের পক্ষ থেকে তিব্বত রুটে অনুমতি না দেওয়ায় সব অভিযাত্রীকে নেপাল পথ ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে পুরো মৌসুমজুড়ে নেপাল অংশে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

পর্বতারোহণ কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো কয়েকটি দল বেস ক্যাম্পে নিজেদের সফল আরোহণের তথ্য জমা দেয়নি। তাই যাচাই-বাছাই শেষে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। নিয়ম অনুযায়ী অভিযাত্রীরা ফিরে এসে ছবি, জিপিএস তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দেওয়ার পরই তাদের সাফল্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক আরোহী শীর্ষে পৌঁছানোকে ঘিরে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত উচ্চাঞ্চলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ওই এলাকায় বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম থাকায় সামান্য বিলম্বও প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

চলতি মৌসুমে নেপাল সরকার এভারেস্ট আরোহণের জন্য প্রায় ৫০০টির কাছাকাছি অনুমতি দিয়েছে। প্রতিটি অনুমতির জন্য আরোহীদের গুনতে হয়েছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। দীর্ঘদিন ধরেই অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা অভিযোগ করে আসছেন, অতিরিক্ত অনুমতির কারণে এভারেস্টে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

তবে কিছু অভিযাত্রী সংগঠকের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বড়সংখ্যক আরোহীও নিরাপদে অভিযান সম্পন্ন করতে পারেন। তাদের দাবি, সময় ভাগ করে দল পরিচালনা করলে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বর্তমানে এভারেস্ট অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের শত শত আরোহী অবস্থান করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আরো অনেক অভিযাত্রী শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এভারেস্টে ভিড়ের মাঝেও রেকর্ড গড়লেন ২৭৪ পর্বতারোহী

প্রকাশ: ০৩:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন পর্বতারোহীরা। নেপালের দিক থেকে মাত্র একদিনেই ২৭৪ জন অভিযাত্রী সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন, যা দেশটির ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নেপালের পর্বতারোহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিপুলসংখ্যক আরোহী একসঙ্গে শীর্ষে পৌঁছানোর সুযোগ পান। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে নেপালের দিক থেকে এক দিনে ২২৩ জন পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এই পর্বত নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে অবস্থিত। সাধারণত দুই দিক থেকেই অভিযাত্রীরা এভারেস্টে আরোহণ করেন। তবে চলতি মৌসুমে চীনের পক্ষ থেকে তিব্বত রুটে অনুমতি না দেওয়ায় সব অভিযাত্রীকে নেপাল পথ ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে পুরো মৌসুমজুড়ে নেপাল অংশে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

পর্বতারোহণ কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো কয়েকটি দল বেস ক্যাম্পে নিজেদের সফল আরোহণের তথ্য জমা দেয়নি। তাই যাচাই-বাছাই শেষে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। নিয়ম অনুযায়ী অভিযাত্রীরা ফিরে এসে ছবি, জিপিএস তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দেওয়ার পরই তাদের সাফল্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক আরোহী শীর্ষে পৌঁছানোকে ঘিরে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত উচ্চাঞ্চলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ওই এলাকায় বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম থাকায় সামান্য বিলম্বও প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

চলতি মৌসুমে নেপাল সরকার এভারেস্ট আরোহণের জন্য প্রায় ৫০০টির কাছাকাছি অনুমতি দিয়েছে। প্রতিটি অনুমতির জন্য আরোহীদের গুনতে হয়েছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। দীর্ঘদিন ধরেই অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা অভিযোগ করে আসছেন, অতিরিক্ত অনুমতির কারণে এভারেস্টে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

তবে কিছু অভিযাত্রী সংগঠকের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বড়সংখ্যক আরোহীও নিরাপদে অভিযান সম্পন্ন করতে পারেন। তাদের দাবি, সময় ভাগ করে দল পরিচালনা করলে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বর্তমানে এভারেস্ট অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের শত শত আরোহী অবস্থান করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আরো অনেক অভিযাত্রী শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।