সূর্য গ্রহণ হলো একটি প্রাকৃতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে এমনভাবে অবস্থান করে যে সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর কোনো অংশে পৌঁছাতে পারে না, তখন সূর্য গ্রহণ ঘটে। এই সময় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সূর্যকে আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে যেতে দেখা যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি অমাবস্যায় সূর্য গ্রহণ হয় না। কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে রয়েছে। ফলে অধিকাংশ সময় চাঁদের ছায়া পৃথিবীকে স্পর্শ করে না। তবে যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় আসে, তখনই সূর্য গ্রহণের ঘটনা ঘটে।
সূর্য গ্রহণের ধরন
পূর্ণ সূর্য গ্রহণ: চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে দেয়।
আংশিক সূর্য গ্রহণ: সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যায়।
বলয়াকার সূর্য গ্রহণ: চাঁদ তুলনামূলক দূরে থাকায় সূর্যের মাঝখান ঢেকে যায়, কিন্তু চারপাশে আগুনের বলয়ের মতো আলো দেখা যায়।
হাইব্রিড সূর্য গ্রহণ: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে কখনও পূর্ণ, আবার কোথাও বলয়াকার গ্রহণ দেখা যায়।
খালি চোখে দেখা কি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি চোখে সূর্য গ্রহণ দেখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে চোখের রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সূর্য গ্রহণ দেখার জন্য অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের সোলার ভিউয়িং গ্লাস বা বিশেষ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত।
বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
সূর্য গ্রহণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সূর্যের বাইরের স্তর বা করোনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ পান। এছাড়া পৃথিবী-চাঁদ-সূর্যের অবস্থান ও কক্ষপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহেও এই ঘটনা সহায়ক।
সূর্য গ্রহণ কোনো অলৌকিক বা অশুভ ঘটনা নয়; এটি মহাকাশে গ্রহ-উপগ্রহের স্বাভাবিক গতির ফল। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এই ঘটনাকে নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।

দৈনিক টার্গেট 























