১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করছে ভারত, দুই মাসে এসেছে ৫০০ টন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮১ বার পঠিত হয়েছে

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—দেশটির মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভরুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার হয়েও গেছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম বা রো থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাকসুদ বলেন, এসব ইলিশের ডিম আলাদাভাবেও বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশেও পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান এসেছে গুজরাট ও মুম্বাই থেকে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। রোববারও প্রায় ১০ টন ইলিশ নিয়ে দুটি চালান এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুরুতে এসব চালানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হলে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কিছু রপ্তানিকারক প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইলিশ রপ্তানির কোডের অধীনে পাঠানো চালানে সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে। পরে পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কাস্টমসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে সত্যিই ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানির এই পরিবর্তন এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। গত বছর বাংলাদেশ ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও ভারতে ইলিশ আমদানি ৬০০ টনের নিচে ছিল। মূলত বেশি দামের কারণে আমদানিকারকেরা অনেক চালান নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

দেশের পুঁজিবাজারে এখন গুজব, অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট সমান্তরাল রেখায় চলছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আচরণও বেশ অস্থির হয়ে উঠছে। সপ্তাহের বেশির ভাগ কার্যদিবসে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের পরিস্থিতি তাঁদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশে সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়নের গতি থমকে গেছে। এ দুই খাতে অর্থায়ন আশঙ্কাজনক কমেছে। এতে ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ ও দূষণ কমিয়ে সবুজ উৎপাদন ও টেকসই শিল্পায়নের পথেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল নিক্ষেপে পুলিশ কনস্টেবল আহত

বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করছে ভারত, দুই মাসে এসেছে ৫০০ টন

প্রকাশ: ০৯:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—দেশটির মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভরুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার হয়েও গেছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম বা রো থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাকসুদ বলেন, এসব ইলিশের ডিম আলাদাভাবেও বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশেও পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান এসেছে গুজরাট ও মুম্বাই থেকে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। রোববারও প্রায় ১০ টন ইলিশ নিয়ে দুটি চালান এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুরুতে এসব চালানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হলে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কিছু রপ্তানিকারক প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইলিশ রপ্তানির কোডের অধীনে পাঠানো চালানে সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে। পরে পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কাস্টমসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে সত্যিই ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানির এই পরিবর্তন এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। গত বছর বাংলাদেশ ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও ভারতে ইলিশ আমদানি ৬০০ টনের নিচে ছিল। মূলত বেশি দামের কারণে আমদানিকারকেরা অনেক চালান নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

দেশের পুঁজিবাজারে এখন গুজব, অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট সমান্তরাল রেখায় চলছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আচরণও বেশ অস্থির হয়ে উঠছে। সপ্তাহের বেশির ভাগ কার্যদিবসে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের পরিস্থিতি তাঁদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশে সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়নের গতি থমকে গেছে। এ দুই খাতে অর্থায়ন আশঙ্কাজনক কমেছে। এতে ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ ও দূষণ কমিয়ে সবুজ উৎপাদন ও টেকসই শিল্পায়নের পথেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে।