বাংলাদেশে বর্তমানে আনুষ্ঠানিক খাতে চাকরি বৃদ্ধির গতি এমনিতেই মন্থর। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের শ্রমবাজারে। মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৪ শতাংশই আজ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, যেখানে চাকরির নিরাপত্তা, উপযুক্ত মজুরি এবং শ্রম অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই। উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি বাধ্য হয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে কম আয়ে চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকে এখনই আনুষ্ঠানিক খাতের বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গতানুগতিক সেবা খাত দিয়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সরকারি বা বেসরকারি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী নিয়োগের মানসিকতা বাদ দিয়ে নিয়মিত ও স্থায়ী পদে চাকরি বাধ্যতামূলক করার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার।
বেকার সমস্যা শুধু কর্মসংস্থানের অভাবের ফল নয়; বরং কর্মক্ষেত্রের বিস্তার করা না গেলে এ সমস্যা থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। তাই বেকারত্ব হ্রাসে নতুন চাকরির বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
একই সঙ্গে এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার কারিকুলামে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল রেখে কিংবা কেরানি তৈরির গতানুগতিক ডিগ্রি প্রদান করে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক ও দেশীয় শ্রমবাজারের চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঠ্যক্রমকে ঢেলে সাজাতে হবে। মুখস্থবিদ্যার বদলে সাধারণ শিক্ষায় প্রযুক্তি, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সমমর্যাদায় উন্নীত করা দরকার।
সনদ অর্জনের বদলে তরুণদের কারিগরি, ডিজিটাল ও পেশাগতভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে দেশীয় আনুষ্ঠানিক শিল্পে তাঁরা যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দক্ষ মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ দিতে পারেন।
সময় দ্রুত গড়াচ্ছে। ধনী দেশে উন্নীত হওয়ার আগেই যদি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বোঝা বহনের সময় চলে আসে, তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে। এই বিপর্যয় এড়াতে হলে আনুষ্ঠানিক খাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এ জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষার কাঠামো তৈরি করে সেটা বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হতে হবে। রাষ্ট্রকে কালবিলম্ব না করে এ জন্য যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
দৈনিক টার্গেট 























