নাম প্রকাশ না করার শর্তে রুবিও-র অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সাবেক এই সিনেটর ও তাঁর উপদেষ্টারা বর্তমানে তাঁর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কূটনীতিক পদত্যাগ করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, রুবিও পদত্যাগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বপদে বহাল থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অবশ্য হোয়াইট হাউস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট (মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর) উভয়ই রুবিওর পদত্যাগের আলোচনার এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ডিলান জনসন এই বিষয়ে বলেন, ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর পদ ছাড়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। এই ভিত্তিহীন খবর মিথ্যা প্রমাণিত হবে এবং তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনে সগর্বে কাজ চালিয়ে যাবেন।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বেনী রে হারমোনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা সূত্রের ছড়ানো এই ভুয়া খবরের কোনো ভিত্তি নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও “মাগা” আন্দোলনের একজন নির্ভীক যোদ্ধা।’
মার্কিন রাজনৈতিক ঐতিহ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর কিংবা প্রশাসনের শেষ মেয়াদে এসে ক্যাবিনেট সদস্য বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করা নতুন কিছু নয়। তবে জানুয়ারি মাসে নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরুর আগেই রুবিও পদত্যাগ করলে, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত করার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে শক্ত অবস্থানে যাওয়া ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে কথিত মাদকবাহী নৌকায় বিমান হামলার মতো কিছু ঘটনা রয়েছে, যেখানে রুবিও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে ট্রাম্প মনোনীত নতুন যেকোনো প্রার্থীকে এবার সিনেটে কঠিন যাচাই-বাছাই ও বাধার সম্মুখীন হতে হবে।
২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ট্রাম্পের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে পরবর্তীতে তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ও নীতিনির্ধারকে পরিণত হন মার্কো রুবিও। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির হাল কে ধরবেন—সেই আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি রুবিওর নামও দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের চরম অসন্তোষের মুখে রিপাবলিকানদের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল বহুল বিতর্কিত ‘ইরান যুদ্ধ’। রুবিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও ব্যক্তিগতভাবে এর থেকে নিজেকে কিছুটা দূরত্বে রাখার চেষ্টা করেছেন। এখন পদত্যাগ করলে জনপ্রিয়তাহীন এই যুদ্ধ থেকে তিনি নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন রুবিও মূলত ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা নীতির সফল বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে এক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা এবং দেশটির ভারপ্রাপ্ত নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতা করে বিশাল তেল সম্পদ উন্মুক্ত করার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এ ছাড়া কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাতের অংশ হিসেবে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধিতেও তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
রুবিওর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দলের নেতৃত্ব নেওয়ার লড়াইয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রার্থী হলে রুবিও হয়তো অভ্যন্তরীণ এই তিক্ত লড়াই এড়িয়ে যেতে পারেন। রুবিও নিজেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন যে ২০২৮ সালের জন্য ভ্যান্সই সেরা প্রার্থী হবেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট ছাড়লে রুবিও আপাতত বেসরকারি খাতে যোগ দিয়ে ২০২৮ সালের পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।

দৈনিক টার্গেট 

























