আজ শনিবার রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব ঢাকায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৭ নভেম্বর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সর্বস্তরের মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন ও সার্বজনীন অর্জন। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশরা যেটিকে সিপাহী বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল, সেটি ছিল মূলত উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধ। সেই বিপ্লব ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ব্যর্থ হয়নি। সেদিনের বিপ্লব সফল না হলে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান এক দিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহু মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই অর্জন এসেছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তির এককভাবে এর মালিকানা দাবি করা সমীচীন নয়। এই চেতনা সমগ্র জাতির।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সেদিন সিপাহী-জনতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছিল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতার মোহে বা নিজের উদ্যোগে ওই বিপ্লব ঘটাননি; বরং জাতির প্রয়োজনে মানুষ তাঁকে নেতা বানিয়েছিল। তিনি ওই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন।
সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁদের প্রজাতন্ত্রের সেবা এবং জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের বেআইনি আদেশ অমান্য করে নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করা উচিত।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক চাপ, লোভ কিংবা ভীতির কারণে সিভিল সার্ভিসের একাংশ ভোটারবিহীন ও রাতের নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করেছে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর চরম মূল্য দিতে হয়েছে সিভিল প্রশাসনকে। ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা বা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
স্বাগত বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার ট্রেজারার ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমান, সাবেক সচিব এস এম জহিরুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব মাসুদ আলমগীর হোসেন। সমাপনী বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সহসভাপতি এম এ রাজেক।

দৈনিক টার্গেট 























