এআই খাতের চাহিদায় ভাটা, কমছে এশিয়ায় চিপ উৎপাদন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:১৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

সোমবার প্রকাশিত বেসরকারি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চিপ রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয় এশীয় দেশগুলোতে উৎপাদন খাতের গতি কমেছে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাবও রয়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ভোগব্যয় কমছে, দুর্বল হচ্ছে ব্যবসায়িক আস্থা। ফলে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। এত দিন চিপ ও এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের জোরালো চাহিদা এশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা দিলেও সেই সুবিধা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

টোকিওভিত্তিক দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদীয়মান বাজারবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা বলেন, ‘চিপ ও এআইয়ের জোরালো চাহিদা এশিয়া ও বিশ্বের অর্থনীতির দুর্বল দিকগুলোকে এত দিন আড়াল করে রেখেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিস্থিতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এশিয়ার মানুষের ভোগব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোও চাপে পড়ছে।

চীনের উৎপাদন খাতের সূচকেও এ মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সংকলিত রেটিংডগ চায়না জেনারেল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশটির উৎপাদন খাতের সূচক ছিল ৫২। সেপ্টেম্বরে এ সূচক ছিল ৫২ দশমিক ১। পিএমআই ৫০-এর ওপরে থাকলে উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। অর্থাৎ চীনের উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হলেও সেই গতি আগের মাসের তুলনায় সামান্য কমেছে।

এর আগে শনিবার প্রকাশিত চীনের সরকারি পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, অক্টোবরে দেশটির কারখানাগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। গত চার মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো উৎপাদন খাতে সংকোচনের ঘটনা ঘটল।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ নগুয়েন হোয়াং নাম বলেন, পিএমআইয়ের তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে কিছুটা গতি ফেরার পর অক্টোবরে চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার দুর্বল হয়েছে। উৎপাদন খাতের কার্যক্রম সামান্য কমেছে, তবে বিদেশি চাহিদা এখনো স্থিতিশীল বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, নির্মাণ খাতের কার্যক্রম ও এ খাতের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশায় বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, বছরের বাকি সময়ে সরকারের রাজস্ব সহায়তা অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙা করবে—এমন আস্থা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কমে গেছে।

চীনের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানেও উৎপাদন খাতের গতি কমেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জরিপ অনুযায়ী, জাপানের উৎপাদন খাতের পিএমআই সেপ্টেম্বরে ৫৪ দশমিক ১ থাকলেও অক্টোবরে কমে ৫৩ দশমিক ৩ হয়েছে। উৎপাদন ও নতুন ক্রয়াদেশের গতি কমে যাওয়ায় গত সাত মাসের মধ্যে অক্টোবরে দেশটির উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ ছিল সবচেয়ে ধীর।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানার কার্যক্রম অক্টোবরে গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে। উৎপাদন ও চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটির পিএমআই সেপ্টেম্বরে ৫৩ দশমিক ৯ থেকে নেমে অক্টোবরে ৫১ দশমিক ৩ হয়েছে। তাইওয়ানের পিএমআইও সেপ্টেম্বরে ৫৬ দশমিক ৭ থেকে কমে অক্টোবরে ৫৪ দশমিক ৯ হয়েছে।

তবে এশিয়ার সব দেশের উৎপাদন খাতের চিত্র এক রকম নয়। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে অক্টোবরে কারখানার কার্যক্রম আগের মাসের তুলনায় দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ভারতের উৎপাদন খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়া এবং নতুন কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে রপ্তানি আদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির মন্থরতা কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

চিপ ও এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা এখনো এশিয়ার উৎপাদন খাতকে বিশ্বের অনেক অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। তবে এ চাহিদা কত দিন অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা না এলে প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছর এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমবে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে সৃষ্ট ধাক্কা এবং এআই খাতের উত্থানে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংশোধনকে বাড়তে থাকা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এশিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। গত এপ্রিলে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এ হার বেশি হলেও ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম।

এআই খাতের উত্থান থেকে সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রযুক্তির উত্থান জাপানের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এআই নিয়ে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা বড় ধরনের ধাক্কা খেলে তার প্রভাব শুধু প্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়তে পারে বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ও উৎপাদন খাতেও।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এআই নিয়ে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে দ্রুত মূল্যপতন এবং এআই উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের গতি কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে রপ্তানি ও উৎপাদন কমে গিয়ে জাপানের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসছে এমন সব পোশাক থেকে, যেগুলো দেশের প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আগে থেকে শীর্ষে রয়েছে। বিপরীতে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পোশাকের রপ্তানি বাড়ছে ধীরগতিতে। কিছু পণ্যের রপ্তানি আবার কমেও গেছে।

এআইতে বদলে যাচ্ছে চীনের কৃত্রিম হীরার বাজার

এআইতে বদলে যাচ্ছে চীনের কৃত্রিম হীরার বাজার

চীনের কৃত্রিম হীরা উৎপাদকেরা গয়না তৈরির বাজারের বাইরে নতুন সম্ভাবনা খুঁজছেন। তীব্র প্রতিযোগিতা ও দাম কমে আসার চাপে তাঁদের লক্ষ্য এখন সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সার্ভার এবং অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তির কাজে ব্যবহারের উপযোগী উন্নত উপকরণ তৈরি। বিশাল এই শিল্পের ভবিষ্যৎ যে শুধু রত্নপাথরের

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকটের দ্রুত সমাধান নেই

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকটের দ্রুত সমাধান নেই

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনকে ঘিরে দুটি বড় যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা থেকে ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

চাঁদপুরে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও মন্দির বন্ধের দাবি হেফাজতের

এআই খাতের চাহিদায় ভাটা, কমছে এশিয়ায় চিপ উৎপাদন

প্রকাশ: ০৪:১৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সোমবার প্রকাশিত বেসরকারি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চিপ রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয় এশীয় দেশগুলোতে উৎপাদন খাতের গতি কমেছে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাবও রয়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ভোগব্যয় কমছে, দুর্বল হচ্ছে ব্যবসায়িক আস্থা। ফলে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। এত দিন চিপ ও এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের জোরালো চাহিদা এশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা দিলেও সেই সুবিধা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

টোকিওভিত্তিক দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদীয়মান বাজারবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা বলেন, ‘চিপ ও এআইয়ের জোরালো চাহিদা এশিয়া ও বিশ্বের অর্থনীতির দুর্বল দিকগুলোকে এত দিন আড়াল করে রেখেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিস্থিতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এশিয়ার মানুষের ভোগব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোও চাপে পড়ছে।

চীনের উৎপাদন খাতের সূচকেও এ মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সংকলিত রেটিংডগ চায়না জেনারেল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশটির উৎপাদন খাতের সূচক ছিল ৫২। সেপ্টেম্বরে এ সূচক ছিল ৫২ দশমিক ১। পিএমআই ৫০-এর ওপরে থাকলে উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। অর্থাৎ চীনের উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হলেও সেই গতি আগের মাসের তুলনায় সামান্য কমেছে।

এর আগে শনিবার প্রকাশিত চীনের সরকারি পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, অক্টোবরে দেশটির কারখানাগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। গত চার মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো উৎপাদন খাতে সংকোচনের ঘটনা ঘটল।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ নগুয়েন হোয়াং নাম বলেন, পিএমআইয়ের তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে কিছুটা গতি ফেরার পর অক্টোবরে চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার দুর্বল হয়েছে। উৎপাদন খাতের কার্যক্রম সামান্য কমেছে, তবে বিদেশি চাহিদা এখনো স্থিতিশীল বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, নির্মাণ খাতের কার্যক্রম ও এ খাতের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশায় বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, বছরের বাকি সময়ে সরকারের রাজস্ব সহায়তা অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙা করবে—এমন আস্থা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কমে গেছে।

চীনের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানেও উৎপাদন খাতের গতি কমেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জরিপ অনুযায়ী, জাপানের উৎপাদন খাতের পিএমআই সেপ্টেম্বরে ৫৪ দশমিক ১ থাকলেও অক্টোবরে কমে ৫৩ দশমিক ৩ হয়েছে। উৎপাদন ও নতুন ক্রয়াদেশের গতি কমে যাওয়ায় গত সাত মাসের মধ্যে অক্টোবরে দেশটির উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ ছিল সবচেয়ে ধীর।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানার কার্যক্রম অক্টোবরে গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে। উৎপাদন ও চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটির পিএমআই সেপ্টেম্বরে ৫৩ দশমিক ৯ থেকে নেমে অক্টোবরে ৫১ দশমিক ৩ হয়েছে। তাইওয়ানের পিএমআইও সেপ্টেম্বরে ৫৬ দশমিক ৭ থেকে কমে অক্টোবরে ৫৪ দশমিক ৯ হয়েছে।

তবে এশিয়ার সব দেশের উৎপাদন খাতের চিত্র এক রকম নয়। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে অক্টোবরে কারখানার কার্যক্রম আগের মাসের তুলনায় দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ভারতের উৎপাদন খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়া এবং নতুন কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে রপ্তানি আদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির মন্থরতা কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

চিপ ও এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা এখনো এশিয়ার উৎপাদন খাতকে বিশ্বের অনেক অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। তবে এ চাহিদা কত দিন অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা না এলে প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছর এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমবে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে সৃষ্ট ধাক্কা এবং এআই খাতের উত্থানে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংশোধনকে বাড়তে থাকা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এশিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। গত এপ্রিলে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এ হার বেশি হলেও ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম।

এআই খাতের উত্থান থেকে সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রযুক্তির উত্থান জাপানের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এআই নিয়ে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা বড় ধরনের ধাক্কা খেলে তার প্রভাব শুধু প্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়তে পারে বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ও উৎপাদন খাতেও।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এআই নিয়ে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে দ্রুত মূল্যপতন এবং এআই উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের গতি কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে রপ্তানি ও উৎপাদন কমে গিয়ে জাপানের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসছে এমন সব পোশাক থেকে, যেগুলো দেশের প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আগে থেকে শীর্ষে রয়েছে। বিপরীতে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পোশাকের রপ্তানি বাড়ছে ধীরগতিতে। কিছু পণ্যের রপ্তানি আবার কমেও গেছে।

এআইতে বদলে যাচ্ছে চীনের কৃত্রিম হীরার বাজার

এআইতে বদলে যাচ্ছে চীনের কৃত্রিম হীরার বাজার

চীনের কৃত্রিম হীরা উৎপাদকেরা গয়না তৈরির বাজারের বাইরে নতুন সম্ভাবনা খুঁজছেন। তীব্র প্রতিযোগিতা ও দাম কমে আসার চাপে তাঁদের লক্ষ্য এখন সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সার্ভার এবং অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তির কাজে ব্যবহারের উপযোগী উন্নত উপকরণ তৈরি। বিশাল এই শিল্পের ভবিষ্যৎ যে শুধু রত্নপাথরের

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকটের দ্রুত সমাধান নেই

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকটের দ্রুত সমাধান নেই

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনকে ঘিরে দুটি বড় যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা থেকে ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে।