এই নিয়ে তাঁকে তিন দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো।
দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে দুপুরের পরপরই দীপকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁকে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ।
এরপর গত ৩১ অক্টোবর তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীপকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ৩ নভেম্বর তাঁকে আবার ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।
২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
গত ৩১ অক্টোবর সকালে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হলেও তাহসিফকে তাঁর জুনিয়র বন্ধু দ্বীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গেছেন এজাহারে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়েছ, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার ঘটনায় মৃত তাহসিফ সাউরি ঘটনার পূর্বে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩) ও জেরিকা তাসনিম দিশার (১৯) সঙ্গে ঘোরাফেরাসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন। এ যাবৎ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রকাশ পায় যে, মৃত তাহসিফকে মৃত্যুর পূর্বে শেষ বারের মতো তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামিদ্বয়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। এই অবস্থায় গ্রেপ্তার তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামিরা কোনো না কোনোভাবে ওই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মর্মে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
দীপকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেন এবং কী কারণে তাহসিফ হত্যা করা হয়েছে (যেমন: পূর্ব শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, নাকি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোন্দল) তা নিশ্চিত হওয়া, মামলার হত্যার ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা, মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা, এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) ভাড়াটে খুনি বা সাহায্যকারী জড়িত রয়েছে কি না এবং তাদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করা, ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সঙ্গে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা এবং অপরাধের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য দীপকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

দৈনিক টার্গেট 
























