ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিপন (৩৩) পেশায় একজন ফ্রিল্যান্সার। অনলাইনভিত্তিক কাজের পাশাপাশি কৃষিতে নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই তাঁর এ উদ্যোগ। কয়েক বছর আগে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে প্রথম প্যাশন ফ্রুটের স্বাদ নেন তিনি। ফলটি ভালো লাগায় বীজ সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করলেও প্রথমবার সফল হননি।
পরে গত বছরের ডিসেম্বরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে ৯০০ টাকায় দুটি চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির আঙিনায় রোপণের পর ইউটিউব দেখে শুরু করেন পরিচর্যা। সাত মাসের মধ্যেই মাচাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া লতাগাছে আসে প্রচুর ফল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির সামনের প্রায় চার শতাংশ জায়গায় তৈরি মাচায় ঝুলছে শত শত সবুজ আনারকলি। ফল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ফল খাওয়ানোর পাশাপাশি চাষপদ্ধতি ও পরিচর্যার নানা দিক তুলে ধরছেন রিপন। আগ্রহীদের জন্য নিজেই উৎপাদন করছেন চারা।
তাঁর অভিজ্ঞতায়, আনারকলি গাছে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম। প্রয়োজনীয় জৈব সার, ছত্রাকনাশক ও ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করা যায়। ফুল ফোটার পর হাতে পরাগায়ন করলে ফল ধারণের হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। শীতের তিন মাস বাদে বছরের অধিকাংশ সময় গাছে ফল পাওয়া যায়। একটি গাছ প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী বলেন, আগে ফেসবুকে আনারকলি সম্পর্কে দেখেছি। এখন বাড়ির পাশেই ফলটি দেখতে ও খেতে পারছি। স্থানীয় মাটিতে গাছের ভালো বৃদ্ধি এবং প্রচুর ফল দেখে আমি চাষে আগ্রহী।
ফুলবাড়ীতে প্রথমবারের মতো এ ফল চাষের খবর পেয়েছেন জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, শিগগিরই সরেজমিনে রিপনের বাগান পরিদর্শন করে চাষের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

দৈনিক টার্গেট 






















