• আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখের বেশি মানুষ জড়িত।
• সেকেন্ডহ্যান্ড সেট আমদানির সুযোগ না থাকলে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে ক্লোন বা নকল আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বরের ফোন বন্ধ করা হবে না। এই ব্যবস্থা যুক্ত হবে দ্বিতীয় ধাপে।
আনঅফিশিয়াল বা অনুমোদনহীন মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) প্রচার সম্পাদক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং মল মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান রানা বলেন, ‘আনঅফিশিয়াল মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখের বেশি মানুষ জড়িত। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আলোচনার বাইরে রেখে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতামত কোথায় প্রতিফলিত হবে? আমরা চাই, এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকরের আগে বৈধভাবে সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ দেওয়া হোক।’
এনইআইআর হলো বিটিআরসি পরিচালিত একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর যাচাই করা হয়। এনইআইআরের মাধ্যমে অবৈধ, নকল বা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব।
বিটিআরসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে। এ জন্য বিটিআরসিকে লিখিতভাবে একাধিকবার জানানো হয়েছে। বিটিআরসি সে অনুযায়ী আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকরের পরিকল্পনা করছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জুন পর্যন্ত তাদের এনইআইআর সিস্টেমে ৭৭ কোটি ৬ লাখ আইএমইআই নম্বরের তথ্য সংরক্ষিত ছিল। এগুলোর মধ্যে অন্তত ৪১ কোটি ১৮ লাখ আইএমইআই গ্রে লিস্টে অর্থাৎ অনুমোদনহীন তালিকায় ছিল।
আনঅফিশিয়াল ফোনের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমবিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, ‘আমরা শুনেছি এনইআইআর পুরোপুরিভাবে চালুর পরিকল্পনা চলছে। এটা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আমরা চাই, আমরা যেই সেটগুলো বিক্রি করি, অর্থাৎ সেকেন্ডহ্যান্ড সেট, সেগুলো যেন বৈধভাবে আমদানি করতে পারি, সেই ব্যবস্থাটা যেন করা হয়। অন্যথায় শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, সাধারণ ক্রেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাঁরা কম দামে ফোন কেনার সুযোগ হারাবেন।’

দৈনিক টার্গেট 




















