স্বজনেরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স মনিরামপুর পৌরশহরে বসবাস করেন।
নাহিদুরের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর বড় ভাই এই প্রতিবেদককে কক্সবাজারের রিসোর্টে কক্ষ বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। বিলের কপি অনুযায়ী, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। বুকিং দেওয়া হয়েছিল ১১ অক্টোবর। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
জাহিদুর বলেন, ‘আমরা দুই ভাই। মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সঙ্গে গ্রামে থাকেন। বাবা এখনো নাহিদুরের ঘটনার কথা জানেন না। নাহিদুর তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। ছুটি পেলে বা উৎসবের সময় তাঁরা গ্রামে আসতেন। তাঁরা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিত হতে পারিনি। তাঁদের নিয়ে আমরা খুব উদ্বেগে রয়েছি।’
নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নাহিদুর নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি আরও জানান, নিখোঁজ ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় তখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্বজনদের আশঙ্কা, নিখোঁজ নাহিদুরের পরিবারের চার সদস্যের পরিচয় এখনো শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

দৈনিক টার্গেট 






















