এর আগে শনিবার সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাট করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ভরাটকাজ বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। এর আগে সীতারামের দিঘি, নথুল্লাবাদ আলী চেয়ারম্যানের একটি দিঘি, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের দিঘি, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন মা ও শিশুকল্যাণকেন্দ্রের পুকুর ভরাট কিংবা ভরাটের চেষ্টা চলে।
সরেজমিনে গতকাল দুপুরে আদম আলী হাজি গলিতে দেখা যায়, পুকুরটি ভরাট করতে করতে ছোট করে ফেলা হয়েছে। সেখানে সিটি করপোরেশন একটি সাইনবোর্ড টাঙানো। পুকুরটি দেখে মনে হয়েছে আশপাশের পাকা ভবনের কারণে এটি মৃতপ্রায়।
১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির বলেন, ‘ওটা হিন্দুদের সম্পত্তি ছিল। ছোটবেলায় গোসল করছি সেখানে। এর আয়তন ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। মসজিদের কাজ চলায় এর বালু ওখানে ফেলার সঙ্গে মালিক দাবিদারদের একধরনের যোগসাজশে আছে।’
পুকুরটির মালিকানা দাবিদার নগরের বটতলাসংলগ্ন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আদম আলী হাজি গলির মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘ওটা মূলত হিন্দুদের বাড়ি ছিল। প্রায় ৭৮ শতাংশের একাংশে হয়তো হিন্দুরা পূজা-অর্চনার জন্য ডোবা-নালা করেছিলেন। তাঁর জন্মের আগে ওই জমিটি তাঁদের পৈতৃকভাবে কেনা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘সিটি করপোরেশন জলাশয় দাবি করলেই তো হবে না। সিএস, আরএসে সেটাকে জমি দেখানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, তাঁরা এখন ডোবা ভরছেন না। কারা ভরছেন জানেন না। সময়মতো তাঁরা উদ্যোগ নেবেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান মো. লকিতুল্লাহ সিকদার বলেন, তাঁরা জানতে পারেন যে বটতলা মসজিদের নির্মাণকাজের বালু দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী আদম আলী হাজি গলির একটি জলাশয় ভরছে। তারা গতকাল দুপুরে গিয়ে পাইপ সরিয়ে ভরাটকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর ৮ ধারা অনুযায়ী জলাশয় ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ। এই পুকুরটি এর আগেও ভরাট করা চেষ্টা করায় অভিযুক্তদের নোটিশ দিয়েছেন। সিটি করপোরেশন পুকুর কিংবা জলাশয় ভরাট বন্ধে চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পুকুর কিংবা জলাশয় এভাবে ভরাট করা যাবে না। একের পর এক পুকুর ও দিঘি ভরাট বরিশালের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বেলার পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো কোনো জায়গায় পদক্ষেপও নিচ্ছে। পুকুর ও জলাশয় ভরাট বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতাও দরকার।’

দৈনিক টার্গেট 


























