আটক ব্যক্তিরা হলেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২৬), ইয়ানজের ছেলে সাহাবুল আলী (৪০), শাহাজাহান প্রামাণিকের ছেলে বাবর আলী (৪০), সামাদ মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) এবং জামাল মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)। তাঁদের মধ্যে তিনজন পাট ব্যবসায়ী ও দুজন নৌকার মাঝি-মাল্লা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার এলাকা থেকে পাট কিনে নৌকায় ফিরছিলেন তাঁরা। নদীতে স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালানোর সময় মাঝি-মাল্লারা ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়েন। পরে বিএসএফ পাটবোঝাই নৌকাসহ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আজ শুক্রবার, আটক ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলে তাঁদের উদ্বেগ টের পাওয়া যায়।
নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী বলেন, ‘আপনারা আমার বাবাকে এনে দেন। বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চালানোর মতো আর কোনো মানুষ নেই। এই কয়দিন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে সংসার চলছে। এভাবে কত দিন চলব, বলেন?’
কলেজছাত্র মোশাররফের বাবা গোলাম মোস্তফা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘অভাবের সংসারে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে ব্যবসা করে। এবার আরও দুজন পার্টনারের সঙ্গে পাট কেনাবেচা করছিল। ছেলেটা কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।’
বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা বলেন, ‘কোথায়, কেমন আছে—এটুকু জানতে পারলেও কিছুটা শান্তি পেতাম। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
স্থানীয়দের দাবি, আটক পাঁচজনই এলাকার পরিচিত পাট ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝি। তাঁদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তাঁরা। দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘এরা গরিব মানুষ। ভুল করে সীমান্তের ওপারে চলে গেছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা উচিত।’
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সল তালুকদার বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি জেনেছি। বিজিবির সঙ্গে কথা বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার প্রায় চার ঘণ্টা পর শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুদের একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনার তীর ধসে নদীতে পড়ে নিখোঁজের প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর মো. রাকিবের (১৮) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি বিজিবি সদস্য আমজাদের।
দৈনিক টার্গেট 




















