রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরা জানায়, শনিবার ফোর্ট পোর্টালের রাজ সমাধিক্ষেত্রে রাজা ওয়োর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই রাজপরিবারের বাছাই করা ৫৬ বছর বয়সী প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানানগোমা উত্তরসূরি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেন। উগান্ডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের এই সংবাদ উপস্থাপক ও সম্পাদক ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে রাজার কবরে নয়টি কফি-বীজ নিক্ষেপ করেন।
তবে রাজা ওয়োর মা কুইন মাদার বেস্ট কেমিগিসা এবং বোন প্রিন্সেস রুথ কোমুনতালে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালে করা রাজার একটি উইলে তাঁর এক পুত্রকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজা ওয়ো কখনো বিয়ে করেননি এবং প্রকাশ্যেও তাঁর কোনো সন্তানের কথা জানা যায়নি। তবে তাঁর মৃত্যুর পর তোওরোর প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রওমিইরে আকিইকি জানান, রাজা একটি পুত্র রেখে গেছেন। তবে ‘উপযুক্ত সময়ে’ শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজপরিবারের দাবি, উইলে ওই সন্তানকে রাজার আইনগতভাবে স্বীকৃত জৈবিক পুত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাবিতো গোষ্ঠীর প্রবীণদের বক্তব্য ভিন্ন। তোওরোর রাজবংশের বংশধারা, উত্তরাধিকার এবং ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রবীণরা বলছেন, রাজা ওই সন্তানকে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেননি। বরং তিনি কিজানানগোমাকেই উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন করেছিলেন।
বাবিতো প্রবীণ রেভারেন্ড ফাদার চার্লস ওয়ো বলেন, উইল রাজা হওয়ার অধিকার নির্ধারণ করে না; এটি কেবল একজনের ইচ্ছার প্রকাশ। তাঁর ভাষ্য, বাবিতো গোষ্ঠীর প্রধানের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রিন্সেস কোমুনতালে। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রবীণ রাজপরিবারের কাছ থেকে সিংহাসনের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, তাঁর ভাই ছিলেন শান্ত, বিনয়ী ও মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাঁর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেবেন না বলেও জানান তিনি।
রাজা ওয়োর সিংহাসনে আরোহণের ইতিহাসও ছিল অসাধারণ। ১৯৯৫ সালে তাঁর বাবা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি রাজা হন। তখন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিতি পান।
শৈশবে রাজপ্রাসাদেই তাঁর পড়াশোনা শুরু হয়। পরে স্কুলে ভর্তি হলে সহপাঠীরা তাঁকে বন্ধুসুলভ ও উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন। ছুটির সময়ে কখনো কখনো তিনি কাম্পালার পারিবারিক বাসভবন থেকে চুপিচুপি বেরিয়ে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন।
উগান্ডা একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। ফলে দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে বিভিন্ন রাজপরিবার নিজ নিজ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের একটি বড় অংশের আনুগত্যও তাঁদের প্রতি রয়েছে।
১৯৬৭ সালে উগান্ডায় ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়। পরে ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির আমলে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর রাজা ওয়ো পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। ২০২০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ও রুয়েনজোরি পর্বতমালার হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য তিনি পাহাড়টিতে আরোহণ করেন। তোওরো অঞ্চলে পাঁচ বছরে এক কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচিতেও অংশ নিতেন।
মৃত্যুর আগে কিয়েনজোজো জেলায় শিশুদের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণে জমি বরাদ্দ ও অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
রাজা ওয়োর অসুস্থতার খবর অনেকটাই গোপন রাখা হয়েছিল। তাঁর বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর তাঁর পিঠ ও পাঁজরে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে পরিবার ধারণা করেছিল, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা আলসারের কারণে এমন হতে পারে।
পরে কেনিয়ায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁর শরীরে অ্যাঞ্জিওসারকোমা নামের আক্রমণাত্মক ক্যানসার শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য তিনি জার্মানি এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই ২৭ আগস্ট ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে তিনি দেশে ফিরে নিজের জনগণের সঙ্গে রাজ্যাভিষেকের বার্ষিকী ‘এমপাঙ্গো’ উদ্যাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
শেষ বিদায়ে মা কেমিগিসা ছেলেকে তাঁর ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে স্মরণ করেন। আর বোন কোমুনতালে বলেন, রাজা হওয়ার পরও তাঁর ভাইয়ের ভেতরের শিশুসত্তা হারিয়ে যায়নি—তিনি খেলতে ভালোবাসতেন, তিনটি কুকুরকে ভালোবাসতেন এবং পরিবারের সদস্যদের আগলে রাখতেন।
এখন তাঁর মৃত্যুর পর তোওরোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রাজার গোপন পুত্রই কি হবেন উত্তরাধিকারী, নাকি বাবিতো গোষ্ঠীর মনোনীত প্রিন্স কিজানানগোমাই বসবেন সিংহাসনে? সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে আফ্রিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাজপরিবারের পরবর্তী অধ্যায়।
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজন নারী ব্রিটিশ পুরুষদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। তবে অনেকেই জানিয়েছেন, নিজেদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফৌজদারি মামলা করতে ভয় পান।
বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে আরও শক্ত অবস্থানে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এ অবস্থায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন ছেড়ে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ। দেশটির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
দৈনিক টার্গেট 


























