এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা শালিখা উপজেলার বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
বিপ্লব কুমার নাথ গ্রেপ্তারের আগে সুন্দরবন জোনের মোংলা ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত ছিলেন। মাগুরা ডিবি পুলিশ তাকে বরিশাল থেকে আটক করে। মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব কুমার নাথ।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপের পাশাপাশি গুলি চালায়। এতে পুলিশের গুলিতে শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান নিহত হন।
ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় নিহত মশিউর রহমানকেই প্রধান আসামি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলা দুটিতে নাশকতা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তির নাম মামলার প্ৰধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
দীর্ঘদিন পর নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শালিখা থানাকে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

দৈনিক টার্গেট 
























