হাসিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে দুই চোখে খুব জ্বালাযন্ত্রণা করছে। ড্রপ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ভালো ডাক্তার দেখানোর টাকা নেই। আজ স্কুল মাঠে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে শুনে এসেছি। চিকিৎসক দুই চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দিয়েছেন। ওষুধও বিনা মূল্যে পেয়েছি। কয়েক দিন পর এক চোখে আমেরিকান লেন্স লাগিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসক।’
আজ শনিবার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত যশোর শহরের এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয়ে এ চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি শনাক্তকরণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেড় শতাধিক হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের ছানি অস্ত্রোপচার করে লেন্স প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চক্ষুবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক চিকিৎসক মাহমুদুর রহমান।
ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে যশোরবাসীর জন্য পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিটের সেবা নিশ্চিত করা হবে। গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য যেন অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। সেটিও দ্রুত চালু করে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজক সংগঠন ইকোর প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইকো সব সময় মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে অন্য সংগঠন ও বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে সমাজে বঞ্চনা থাকবে না।
চিকিৎসাসেবা পেয়ে খুশি শঙ্করপুর এলাকার ৭০ বছর বয়সী সালমা বেগম বলেন, ‘ছেলেরা দিন এনে দিন খায়। তাই আমার চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে অনেক খুশি।’
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের জানান, সংস্থাটি অর্থায়নের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। যশোরের চাঁচড়ায় অবস্থিত ইকো ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও সরকারি প্রকৌশল কলেজে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক টার্গেট 





















