স্বজনদের ভাষ্য, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরীকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৪টার দিকে তাঁকে অন্যত্র চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিজলী নামের এক নারীর পরামর্শে তাঁকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে গতকাল রোববার রাত ১টার দিকে তাঁর অস্ত্রোপচার করে। কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন বলে জানানো হলে স্বজনেরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে নার্সরা তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন।
নিহতের বোন মাহফুজা আক্তার বলেন, ‘রাত ১টার দিকে সিজারে আমার বোনের একটি পুত্রসন্তান হয়। পরে রক্তের প্রয়োজনের কথা জানালে সংগ্রহ করে সকালে এসে দেখি, বোনের শরীর ঠান্ডা, কোনো কথা বলছে না।’ তাঁর দাবি, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আদরীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ক্লিনিকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ না করায় এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরিবারের লিখিত আবেদনের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা যাবে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মরদেহ ক্লিনিকেই ছিল।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাকিম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

দৈনিক টার্গেট 






















