১৪ কোটির ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নেই আহতদের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৩১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাজাহানপুরের বনানী বাইপাস থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক অংশে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬৬টি গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫৫ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত শতাধিক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেরপুর থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। দুর্ঘটনার পর দ্রুত অস্ত্রোপচার, রক্তের ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ ট্রমা চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহরের ওই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ট্রমা সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও দুজন রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসারসহ ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এ ছাড়া ১০ জন নার্সসহ ফার্মাসিস্ট, রেডিওলজি ও ল্যাব টেকনিশিয়ান, চালক, অফিস সহকারী, ওয়ার্ডবয় ও আয়ার মতো বিভিন্ন পদে মোট ৬০ জন জনবল থাকার কথা ছিল।

প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে চারতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম না থাকায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্মিত ভবনটিতে বর্তমানে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজও করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ট্রমা ইউনিট চালু না হওয়ায় ভবনটি বিকল্পভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক জানে আলম খোকা বলেন, ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় শ্রমিকদের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত মানুষও দ্রুত উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেকে চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

বগুড়া জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেন, শেরপুরের ওই এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে বগুড়ায় পাঠাতে সময় লাগায় তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। ট্রমা সেন্টারটি চালুর জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সেটি পরিদর্শনও করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত পরবর্তী কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অক্টোবর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের ৩ হাজার ৬৩৯ টন সার আগাম উত্তোলনের অনুমতিও পাওয়া গেছে। সারের কোনো কমতি হবে না। কৃষকদের আশ্বস্ত করতে চাই, রবি মৌসুমেও সারের কোনো সংকট হবে না।

জনপ্রিয় টার্গেট

তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় অবদানের স্বীকৃতি পেল টার্গেট আইটি

১৪ কোটির ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নেই আহতদের

প্রকাশ: ১২:৩১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাজাহানপুরের বনানী বাইপাস থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক অংশে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬৬টি গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫৫ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত শতাধিক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেরপুর থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। দুর্ঘটনার পর দ্রুত অস্ত্রোপচার, রক্তের ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ ট্রমা চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহরের ওই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ট্রমা সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও দুজন রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসারসহ ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এ ছাড়া ১০ জন নার্সসহ ফার্মাসিস্ট, রেডিওলজি ও ল্যাব টেকনিশিয়ান, চালক, অফিস সহকারী, ওয়ার্ডবয় ও আয়ার মতো বিভিন্ন পদে মোট ৬০ জন জনবল থাকার কথা ছিল।

প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে চারতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম না থাকায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্মিত ভবনটিতে বর্তমানে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজও করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ট্রমা ইউনিট চালু না হওয়ায় ভবনটি বিকল্পভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক জানে আলম খোকা বলেন, ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় শ্রমিকদের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত মানুষও দ্রুত উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেকে চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

বগুড়া জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেন, শেরপুরের ওই এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে বগুড়ায় পাঠাতে সময় লাগায় তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। ট্রমা সেন্টারটি চালুর জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সেটি পরিদর্শনও করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত পরবর্তী কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অক্টোবর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের ৩ হাজার ৬৩৯ টন সার আগাম উত্তোলনের অনুমতিও পাওয়া গেছে। সারের কোনো কমতি হবে না। কৃষকদের আশ্বস্ত করতে চাই, রবি মৌসুমেও সারের কোনো সংকট হবে না।