আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁর হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দেখা দরকার। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল দেওয়া হয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন জরুরি।
অনার্স ও মাস্টার্স চালুর ক্ষেত্রেও যথাযথ পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন কলেজও রয়েছে যেখানে এক বা দুজন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে। কোথাও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতও ঠিক নেই। এসব তথ্য যথাযথভাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে এমন কিছু বিষয় দেখেছেন, যা তাঁকে হতাশ করেছে। পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করতে হবে।
এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি ছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। গাইড ও নোট বইয়ের সঙ্গেও প্রশ্নের মিল দেখা যায়। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি ভাবতে হবে।
শিক্ষা খাতে এবারের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু বড় বাজেট পেলেই হবে না, সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি টাকা, প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে রবীন্দ্রভারতীতে বাংলাদেশ ভবন করার জন্য ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জন্মবার্ষিকী আয়োজনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য আসতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে উদ্যোগ নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয়ই মেধাবী। মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল সময়ের ছবি পুনঃস্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল।
মেয়েদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেছেন, সমাজে মেয়েদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও নানা সামাজিক…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
দৈনিক টার্গেট 

























