বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রযোজক ও চিরস্মরণীয় অভিনেতা জসিমকে স্মরণ করছে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা

বাংলার একশন কিং জসিমের ৮০তম জন্মদিন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:১৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫
  • ৪৩৮ বার পঠিত হয়েছে

আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন

আজকের দিনটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ স্মরণীয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ‘অ্যাকশন কিং’ নামে পরিচিত নায়ক জসিমের ৮০তম জন্মদিন আজ। ভিলেন হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও, নায়কের ভূমিকায় নিজেকে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। বেঁচে থাকলে আজকের দিনটি পরিবারের মানুষ, সহকর্মী ও ভক্তদের ভালোবাসায় পূর্ণ হতো, কিন্তু এখন তার স্মৃতিতেই কাটছে এই দিন।

১৯৭২ সালে দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। যদিও মুক্তির তারিখ অনুযায়ী ‘দেবর’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রটিকে তার অভিষেক হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর তিনি অসংখ্য সিনেমায় চমক ছড়ান, যেমন ‘রঙিন দুনিয়া’, ‘মাস্তান’, ‘দোলনা’। বিশেষ করে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকের কাছে তাকে করে তোলে চিরস্মরণীয়।

জসিম শুধু অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রযোজক ও নৃত্যশিল্পীও। সিনেমার শুটিং সেটে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, সহজ মেলামেশা এবং পেশাদারিত্ব সহকর্মীদের কাছে তাকে বিশেষ করে তুলে। সহকর্মীরা তাকে মনে রাখেন নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে, আর দর্শক মনে রাখেন এক অবিস্মরণীয় নায়কের রূপে।

পর্দার বাইরে জসিম ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন তিনি, সশস্ত্র প্রতিরোধে সাহসী ভূমিকা পালন করে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ঢাকায় ফিরে চলচ্চিত্রে পা রাখেন এবং দ্রুত নায়কের ভূমিকায় অভিষেক অর্জন করেন।

দু:খজনক হলেও সত্য, ৮ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। তবে ‘বেঈমান’, ‘সততার জয়’, ‘দাঙ্গা’, ‘মায়ের অধিকার’-এর মতো তার সিনেমা এখনও নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে প্রিয়। সময় বদলেছে, সিনেমার ধরণ বদলেছে, কিন্তু জসিমের নাম আজও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আজকের দিনটি সামাজিক মাধ্যমেও স্মৃতিতে ভরা। ভক্তরা শেয়ার করছেন প্রিয় দৃশ্য, সংলাপ এবং তার সেরা মুহূর্ত। কনিষ্ঠপুত্র এ.কে. রাহুলও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দেশের শ্রেষ্ঠতম একশন হিরোকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।’

যেমন প্রমাণ করে, সত্যিকারের শিল্পী কখনো হারায় না। জসিম বেঁচে আছেন মানুষের মনে, চলচ্চিত্রের পর্দায় এবং প্রতিটি ভালোবাসার স্মৃতিতে।

জনপ্রিয় টার্গেট

ভয়াবহ চোটে মাঠেই জ্ঞান হারালেন নাইজেরিয়ার ফুটবলার

বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রযোজক ও চিরস্মরণীয় অভিনেতা জসিমকে স্মরণ করছে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা

বাংলার একশন কিং জসিমের ৮০তম জন্মদিন

প্রকাশ: ০৬:১৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫

আজকের দিনটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ স্মরণীয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ‘অ্যাকশন কিং’ নামে পরিচিত নায়ক জসিমের ৮০তম জন্মদিন আজ। ভিলেন হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও, নায়কের ভূমিকায় নিজেকে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। বেঁচে থাকলে আজকের দিনটি পরিবারের মানুষ, সহকর্মী ও ভক্তদের ভালোবাসায় পূর্ণ হতো, কিন্তু এখন তার স্মৃতিতেই কাটছে এই দিন।

১৯৭২ সালে দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। যদিও মুক্তির তারিখ অনুযায়ী ‘দেবর’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রটিকে তার অভিষেক হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর তিনি অসংখ্য সিনেমায় চমক ছড়ান, যেমন ‘রঙিন দুনিয়া’, ‘মাস্তান’, ‘দোলনা’। বিশেষ করে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকের কাছে তাকে করে তোলে চিরস্মরণীয়।

জসিম শুধু অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রযোজক ও নৃত্যশিল্পীও। সিনেমার শুটিং সেটে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, সহজ মেলামেশা এবং পেশাদারিত্ব সহকর্মীদের কাছে তাকে বিশেষ করে তুলে। সহকর্মীরা তাকে মনে রাখেন নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে, আর দর্শক মনে রাখেন এক অবিস্মরণীয় নায়কের রূপে।

পর্দার বাইরে জসিম ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন তিনি, সশস্ত্র প্রতিরোধে সাহসী ভূমিকা পালন করে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ঢাকায় ফিরে চলচ্চিত্রে পা রাখেন এবং দ্রুত নায়কের ভূমিকায় অভিষেক অর্জন করেন।

দু:খজনক হলেও সত্য, ৮ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। তবে ‘বেঈমান’, ‘সততার জয়’, ‘দাঙ্গা’, ‘মায়ের অধিকার’-এর মতো তার সিনেমা এখনও নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে প্রিয়। সময় বদলেছে, সিনেমার ধরণ বদলেছে, কিন্তু জসিমের নাম আজও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আজকের দিনটি সামাজিক মাধ্যমেও স্মৃতিতে ভরা। ভক্তরা শেয়ার করছেন প্রিয় দৃশ্য, সংলাপ এবং তার সেরা মুহূর্ত। কনিষ্ঠপুত্র এ.কে. রাহুলও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দেশের শ্রেষ্ঠতম একশন হিরোকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।’

যেমন প্রমাণ করে, সত্যিকারের শিল্পী কখনো হারায় না। জসিম বেঁচে আছেন মানুষের মনে, চলচ্চিত্রের পর্দায় এবং প্রতিটি ভালোবাসার স্মৃতিতে।