ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেস্টের কিট সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে হাসপাতালে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম। এতে সরকারি চাকরিতে নতুন যোগদানকারী, বিদেশগামী কর্মী এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশী শত শত মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় সনদ না পেয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়মানুযায়ী সরকারি চাকরিতে যোগদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন এবং বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কিটের তীব্র ঘাটতি থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের এই পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিট সংকটের সুযোগে অনেকে অন্য জেলায় গিয়ে পরীক্ষা করানোর চেষ্টা করলেও সেখানেও নতুন বিপত্তি তৈরি হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্য জেলার অধিবাসীদের সেবা না দেওয়ার নিয়ম এবং পিজি হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ফি সরকারি ৯০০ টাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ (প্রায় ৩ হাজার টাকা) হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সনদ ছাড়া আবেদন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় বিকল্প কোনো পথও খোলা পাচ্ছেন না ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশীরা।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী কিট সংকটের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে মজুত থাকা সীমিত সংখ্যক কিট কেবল জরুরি সরকারি চাকরিতে যোগদানকারীদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নতুন কিটের চাহিদা পাঠিয়ে দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে। সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করার কিংবা জরুরি দরকারে নিকটস্থ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জেলা সদরের একমাত্র প্রধান সরকারি হাসপাতালে টানা দুই মাস সেবা বন্ধ থাকা অযৌক্তিক। এতে বিদেশগামী ও চাকরিপ্রার্থীদের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহ নিশ্চিত করে ডোপ টেস্ট সেবা স্বাভাবিক করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
আবদুল্লাহ আল হৃদয় 























