০৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মক্ষেত্রে কমনসেন্স ধরে রাখবেন যেভাবে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:১৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার পঠিত হয়েছে

করপোরেট দুনিয়ায় বা যেকোনো প্রফেশনাল সেক্টরে আমরা টেকনিক্যাল স্কিল আর সার্টিফিকেটের পেছনে যতটা সময় দিই, কাজের ভেতরের না-বলা নিয়মগুলো নিয়ে ততটাই উদাসীন থাকি। অফিসে প্রায়ই ম্যানেজারদের মুখে একটা কমন ডায়ালগ শোনা যায়, ‘আরে ভাই, এটা তো জাস্ট কমনসেন্স!’ কিন্তু সমস্যা হলো, যা আপনার কাছে বছরের পর বছর কাজ করতে করতে ‘জলবৎ তরলং’ হয়ে গেছে, নতুন একজনের কাছে তা একদমই ভিনগ্রহের ব্যাপার। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘কার্স অব নলেজ’ বা জ্ঞানের অভিশাপ। একবার কোনো কিছু নিজের আয়ত্তে চলে এলে আমরা ভুলেই যাই যে একসময় আমরাও এর কিছুই জানতাম না।

– মিটিংয়ে সিরিয়াস আলোচনা চলছে, আর আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে চিপস বা গাজর চিবানোর মচমচ শব্দ সোজা ভেসে আসছে সবার কানে। বিশেষ করে রিমোট মিটিংয়ে মিউট বাটন যে কোথায় থাকে, তা অনেক সময় রহস্যই থেকে যায়। কিংবা অফিস ক্যানটিনে অনেকের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় শব্দ করে খাওয়া। এসব খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে চলুন।

– এরপর দেখা গেল কোন একদিন প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট আউট তুলে নিলেন, কিন্তু শেষ পেপার জ্যাম হয়ে আছে বা কালি ফুরিয়ে গেছে। দেখা গেল আপনার সেটা ঠিক করার কোনো তাড়া নেই। আপনি চলে গেলেন আর দায় চাপালেন পরেরজনের ঘাড়ে। এটা না করে সবকিছু চেক করে তারপর জায়গা ছাড়ুন।

– কর্মক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অনেক বেশি জরুরি। যে মিটিং ১৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা, সেটা বিনা কারণে টেনে দুই ঘণ্টা লম্বা করে ফেলা উচিত নয়।

– সবচেয়ে অদ্ভুত হয় ধরুন, বস একটা মেইল পাঠিয়েছেন পুরো টিমকে। আপনি ভুলবশত রিপ্লাই অলে এমন একটা কমেন্ট লিখে বসলেন—যা শুধু আপনার বন্ধুর পড়ার কথা ছিল। কিংবা অফিস গসিপ গ্রুপের কথা লিখে ফেললেন অফিশিয়াল চ্যাট বক্সে। নতুন কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন, তাঁদের কাছে অফিসের এই লুকানো শিষ্টাচার বা কালচার একদমই অপরিচিত ঠেকতে পারে। অথচ পুরোনো বস বা কর্মীরা ধরে নেন, এগুলো তো জন্মসূত্রে সবারই জানা থাকার কথা।

– হালকা ঠান্ডা-কাশি বা হাঁচি হওয়া সত্ত্বেও পুরো অফিসে জীবাণু ছড়াতে ছড়াতে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। ভাবটা এমন যেন দেখুন, আমি কত সিরিয়াস কর্মী। অথচ কমনসেন্স বলে, অসুস্থ হলে ঘরে থেকে বিশ্রাম নেওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক।

– সহকর্মী হয়তো গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি রিপোর্ট লিখছেন, আপনি হঠাৎই কোনো নক বা আগাম বার্তা ছাড়া তাঁর কাঁধের ওপর গিয়ে দাঁড়ালেন কিংবা মিটিং রুমে সোজা ঢুকে পড়লেন। সেই সহকর্মী যতই আপনার বন্ধুর মতো হোক না কেন অবশ্যই নক করে তারপরে রুমে ঢুকবেন।

– ধরুন পুরো টিম যখন ডেডলাইন মেলাতে ব্যস্ত। তাৎক্ষণিক আপনার কোন কাজ নেই। তখন আপনি কী করবেন? অনেকেই আছেন যারা এমন সময় ডেস্কে বসেই জোরে আওয়াজ দিয়ে পারিবারিক বাজার বা ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে আধঘণ্টা গল্প সেরে ফেলছেন। ফোন করা বেশি জরুরি হলে অবশ্যই আলাদা জায়গায় গিয়ে কথা বলা উচিত।

কর্মক্ষেত্রের এই ভুল-বোঝাবুঝি ও একঘেয়েমি কাটাতে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দেওয়া জরুরি:

– অনুমান করা বন্ধ করুন। বসরা মনে করেন কর্মীরা মন পড়ে ফেলবে, আর কর্মীরা ভাবেন বস নিজেই সব বুঝে নেবেন। কাজের প্রত্যাশা ও নিয়মগুলো পরিষ্কার করে দেওয়াটা এখানে সবচেয়ে জরুরি।

– ভুলকে শেখা নতুন সুযোগ হিসেবে দেখুন। কাউকে ভুল করার পর সবার সামনে ভর্ৎসনা না করে, মেন্টরিং বা গাইডের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল থেকে শেখার সংস্কৃতি থাকলে টিমের টেনশন অর্ধেক কমে যায়।

– অভিজ্ঞতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য আনুন। প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অফিসের নিয়ম সবই বদলায়। তাই পুরোনো অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বসে না থেকে নতুনদের শেখার এবং পুরোনোদেরও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।

হংকংয়ে লুই ভুতোঁর রেলস্টেশন

হংকংয়ে লুই ভুতোঁর রেলস্টেশন

বিশ্বের শীর্ষ সারির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো তাদের প্রচার, নতুন কালেকশন উন্মোচন বা ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে প্রায়শই চোখধাঁধানো ও অভিনব স্থাপত্য এবং ফাসাদ ইনস্টলেশন তৈরি করে থাকে। ডিজিটাল স্ক্রিনের বদলে বড় বড় ভবনকে বিশাল ক্যানভাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা

লুই আমলে নিখোঁজ নৌ অভিযান রহস্যে নতুন আলো ফেলল বিরল প্রেমপত্র

লুই আমলে নিখোঁজ নৌ অভিযান রহস্যে নতুন আলো ফেলল বিরল প্রেমপত্র

১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘মঁসিয়ে দ্য লা পেরুজের কোনো খবর আছে?’

 ২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’—মানে কী জানেন

২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’—মানে কী জানেন

সবকিছু থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় কিংবা জীবনের প্রতিটি দিককে নিখুঁত করে তোলার প্রবণতা বোঝাতে ব্যবহৃত ‘ম্যাক্সিং’ (maxxing)-কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছে অভিধানবিষয়ক ওয়েবসাইট ডিকশনারি ডটকম।

জনপ্রিয় টার্গেট

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে

কর্মক্ষেত্রে কমনসেন্স ধরে রাখবেন যেভাবে

প্রকাশ: ০৩:১৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

করপোরেট দুনিয়ায় বা যেকোনো প্রফেশনাল সেক্টরে আমরা টেকনিক্যাল স্কিল আর সার্টিফিকেটের পেছনে যতটা সময় দিই, কাজের ভেতরের না-বলা নিয়মগুলো নিয়ে ততটাই উদাসীন থাকি। অফিসে প্রায়ই ম্যানেজারদের মুখে একটা কমন ডায়ালগ শোনা যায়, ‘আরে ভাই, এটা তো জাস্ট কমনসেন্স!’ কিন্তু সমস্যা হলো, যা আপনার কাছে বছরের পর বছর কাজ করতে করতে ‘জলবৎ তরলং’ হয়ে গেছে, নতুন একজনের কাছে তা একদমই ভিনগ্রহের ব্যাপার। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘কার্স অব নলেজ’ বা জ্ঞানের অভিশাপ। একবার কোনো কিছু নিজের আয়ত্তে চলে এলে আমরা ভুলেই যাই যে একসময় আমরাও এর কিছুই জানতাম না।

– মিটিংয়ে সিরিয়াস আলোচনা চলছে, আর আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে চিপস বা গাজর চিবানোর মচমচ শব্দ সোজা ভেসে আসছে সবার কানে। বিশেষ করে রিমোট মিটিংয়ে মিউট বাটন যে কোথায় থাকে, তা অনেক সময় রহস্যই থেকে যায়। কিংবা অফিস ক্যানটিনে অনেকের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় শব্দ করে খাওয়া। এসব খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে চলুন।

– এরপর দেখা গেল কোন একদিন প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট আউট তুলে নিলেন, কিন্তু শেষ পেপার জ্যাম হয়ে আছে বা কালি ফুরিয়ে গেছে। দেখা গেল আপনার সেটা ঠিক করার কোনো তাড়া নেই। আপনি চলে গেলেন আর দায় চাপালেন পরেরজনের ঘাড়ে। এটা না করে সবকিছু চেক করে তারপর জায়গা ছাড়ুন।

– কর্মক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অনেক বেশি জরুরি। যে মিটিং ১৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা, সেটা বিনা কারণে টেনে দুই ঘণ্টা লম্বা করে ফেলা উচিত নয়।

– সবচেয়ে অদ্ভুত হয় ধরুন, বস একটা মেইল পাঠিয়েছেন পুরো টিমকে। আপনি ভুলবশত রিপ্লাই অলে এমন একটা কমেন্ট লিখে বসলেন—যা শুধু আপনার বন্ধুর পড়ার কথা ছিল। কিংবা অফিস গসিপ গ্রুপের কথা লিখে ফেললেন অফিশিয়াল চ্যাট বক্সে। নতুন কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন, তাঁদের কাছে অফিসের এই লুকানো শিষ্টাচার বা কালচার একদমই অপরিচিত ঠেকতে পারে। অথচ পুরোনো বস বা কর্মীরা ধরে নেন, এগুলো তো জন্মসূত্রে সবারই জানা থাকার কথা।

– হালকা ঠান্ডা-কাশি বা হাঁচি হওয়া সত্ত্বেও পুরো অফিসে জীবাণু ছড়াতে ছড়াতে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। ভাবটা এমন যেন দেখুন, আমি কত সিরিয়াস কর্মী। অথচ কমনসেন্স বলে, অসুস্থ হলে ঘরে থেকে বিশ্রাম নেওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক।

– সহকর্মী হয়তো গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি রিপোর্ট লিখছেন, আপনি হঠাৎই কোনো নক বা আগাম বার্তা ছাড়া তাঁর কাঁধের ওপর গিয়ে দাঁড়ালেন কিংবা মিটিং রুমে সোজা ঢুকে পড়লেন। সেই সহকর্মী যতই আপনার বন্ধুর মতো হোক না কেন অবশ্যই নক করে তারপরে রুমে ঢুকবেন।

– ধরুন পুরো টিম যখন ডেডলাইন মেলাতে ব্যস্ত। তাৎক্ষণিক আপনার কোন কাজ নেই। তখন আপনি কী করবেন? অনেকেই আছেন যারা এমন সময় ডেস্কে বসেই জোরে আওয়াজ দিয়ে পারিবারিক বাজার বা ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে আধঘণ্টা গল্প সেরে ফেলছেন। ফোন করা বেশি জরুরি হলে অবশ্যই আলাদা জায়গায় গিয়ে কথা বলা উচিত।

কর্মক্ষেত্রের এই ভুল-বোঝাবুঝি ও একঘেয়েমি কাটাতে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দেওয়া জরুরি:

– অনুমান করা বন্ধ করুন। বসরা মনে করেন কর্মীরা মন পড়ে ফেলবে, আর কর্মীরা ভাবেন বস নিজেই সব বুঝে নেবেন। কাজের প্রত্যাশা ও নিয়মগুলো পরিষ্কার করে দেওয়াটা এখানে সবচেয়ে জরুরি।

– ভুলকে শেখা নতুন সুযোগ হিসেবে দেখুন। কাউকে ভুল করার পর সবার সামনে ভর্ৎসনা না করে, মেন্টরিং বা গাইডের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল থেকে শেখার সংস্কৃতি থাকলে টিমের টেনশন অর্ধেক কমে যায়।

– অভিজ্ঞতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য আনুন। প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অফিসের নিয়ম সবই বদলায়। তাই পুরোনো অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বসে না থেকে নতুনদের শেখার এবং পুরোনোদেরও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।

হংকংয়ে লুই ভুতোঁর রেলস্টেশন

হংকংয়ে লুই ভুতোঁর রেলস্টেশন

বিশ্বের শীর্ষ সারির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো তাদের প্রচার, নতুন কালেকশন উন্মোচন বা ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে প্রায়শই চোখধাঁধানো ও অভিনব স্থাপত্য এবং ফাসাদ ইনস্টলেশন তৈরি করে থাকে। ডিজিটাল স্ক্রিনের বদলে বড় বড় ভবনকে বিশাল ক্যানভাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা

লুই আমলে নিখোঁজ নৌ অভিযান রহস্যে নতুন আলো ফেলল বিরল প্রেমপত্র

লুই আমলে নিখোঁজ নৌ অভিযান রহস্যে নতুন আলো ফেলল বিরল প্রেমপত্র

১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘মঁসিয়ে দ্য লা পেরুজের কোনো খবর আছে?’

 ২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’—মানে কী জানেন

২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’—মানে কী জানেন

সবকিছু থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় কিংবা জীবনের প্রতিটি দিককে নিখুঁত করে তোলার প্রবণতা বোঝাতে ব্যবহৃত ‘ম্যাক্সিং’ (maxxing)-কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছে অভিধানবিষয়ক ওয়েবসাইট ডিকশনারি ডটকম।